মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তিন জেলার করতোয়ার মোহনায় ভাঙ্গন রোধে কোটি টাকা ব্যয় অপর প্রান্তে বালু মাটি কেটে সাভার পলাশবাড়ীতে মনগড়া ভাবে মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা দেখার নেই পলাশবাড়ী মাঠেরহাট বাজার আবু বক্কর ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ গাইবান্ধায় পত্রিকা হকারদের মাঝে রিপোর্টার্স ইউনিটির “শীতবস্ত্র বিতরণ” পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের পরেও বন্ধ হয়নি ইটভাটা পোড়ানো হচ্ছে প্ল্যাস্টিকের জুতা  গোবিন্দগঞ্জে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে এতিম মেয়ের বিবাহের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান ফুলছড়িতে আগুনে ৬টি শয়ন ঘরসহ মালামাল পুড়ে ছাই ২টি পরিবারের গোবিন্দগঞ্জে রাখালবুরুজ ফকির পাড়া গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ পলাশবাড়ীতে দুটি অবৈধ ইটভাটা ১১ লাখ টাকা জরিমানা ও বন্ধে মুচলেকা  সাদুল্লাপুরে জোনার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কুরআন শরীফ প্রদান।

ডাঃ মোজাফ্ফর আহমেদ আই কেয়ার সেন্টার,গাইবান্ধা । ০১৭৬৭-৩০৬৭০২

পান চাষে সফলতা এনে দিতে পারে কেঁচো সার ব্যবহার

মো. আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

পানের বরজ দেখে খুব ইচ্ছে হলো ভিতরে গিয়ে দেখতে। বরজের মধ্যে গিয়ে কখনো দেখা হয়নি। তাই ব্যাপক আগ্রহের সাথে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ। ভিতরে গিয়েই চোখে পড়লো এক অপরুপ দৃশ্য। দেখলাম একজন নারী অপন মনে যত্ন করে পানের লতার কোমল আগা গুছিয়ে গুছিয়ে বেঁধে রাখছে। প্রথমে ভেবে ছিলাম শ্রমিক হয়তো। কিন্তু কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তিনি নিজেই এই বরজের মালিক মিনা রাণী।

শ্রীমতি মিনা রাণী একজন গৃহিনী। তিনি স্বামী শ্রী সংকর চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউপির পূর্ব শান্তিরাম গ্রামে বসবাস করেন। টগবগে কচি লতায় ভরা এতো সমৃদ্ধ বরজ দেখে মনে কৌতহল হলো। তাই জিজ্ঞাসা করলাম, দিদি এতো সুন্দর আর এতো বেশি পানের ফলন এর রহস্য কী?
তিনি জানালেন, ‘‘দাদা পানের বরজে আমরা এখন কেঁচো সার ব্যবহার করি। কেঁচো সার পানের বরজে দিলে খুব অল্প দিনেই পানের লতার আগা তেরে উঠে এবং পানের আকারও বড় হয়। আর বড় বড় পানে দাম ও বেশ ভালো পাওয়া যায়।’’ বুঝতে আর বাকী রইলোনা যে পান চাষে কেঁচো সার ব্যবহার করার কারণে তাঁর পানের বরজে আজ সোনা ফলতে শুরু করেছে। কথা হলো মিনা রাণীর স্বামী সংকর চন্দ্র বর্মন এর সাথে। তিনি একজন কৃষক। তাঁর কথায় জানা গেল বিগত ১০ বছরে তাঁর এই পানের বরজে এমন ফলন তিনিও দেখেননি। আগে বুঝতেও পারেননি যে কেঁচো সারের এত সফলতা এতো যাদু।

মিনা রাণী একজন গৃহিনী হয়েও কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে তাঁর বাড়ির আশে পাশে বসতভিটার শাক-সবজি চাষ এবং নিজের আবাদি জমিতে ব্যবহার করছেন নিয়মিত। শুধু মিনা রাণী নয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেকেই এখন উৎপাদিত শাক-সবজি যেমন, লাউ কুমড়া, শশা, লালশাক, সবুজশাক, কলমিশাক, বেগুন, মুলা, করলা, পিঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আবাদে ব্যবহার করছে এই কেঁচো সার। এলাকার কৃষকদের নিকট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই কেঁচো সারের ব্যবহার।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই- মাহমুদ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত সমন্বিত পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভর্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন শুরু হয় ২০১৫ সালে। প্রথম দিকে বিষয়টি মানুষের কাছে গুরুত্ব না পেলেও বর্তমানে এই সারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কৃষক পরিবারের নারীদেকে কেঁচো সারের উপর প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলার ধোপাডাঙ্গা, রামজীবন এবং দহবন্দসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিউনিটি পর্যায়ে কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য প্রায় ২২০ জন নারীকে ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী প্লট তৈরী করতে সহায়তা দেয়া হয়। এই প্রদর্শনী দেখে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য কৃষকও এই কেঁচো সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

কৃষক মিনা রাণী জানান, তিনি একটি বেসরকারি সংগঠনের সহযোগিতায় তাঁর বাড়িতে একটি কেঁচো সার তৈরীর কম্পোস্ট পিট তৈরী করেন, যেখান থেকে কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজের জমিতে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাসে প্রায় ৮-১০ মণ সার বিক্রি করে মাসে ৬ হাজার টাকা আয় করেন। বিক্রি এবং ব্যবহারের মুল্য হিসেবে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকার সার উৎপাদন করেন তিনি।

একটি বেসরকারি সংগঠনের (এসকেএস) প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জামাল উদ্দিন জানান, গ্রামপর্যায়ে নারীদেরকে কৃষি উদ্যোক্তারূপে তৈরী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং তাদেরকে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এর অংশ হিসেবে আমরা ধুবনী কঞ্চিবাড়ি, পূর্ব শন্তিরাম, মধ্য তারাপুর, বেলকা পূর্ব সৈনিক পাড়া, বরুয়াদহ বাগানের ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার ৭৫ জন নারী কৃষককে কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। যা দিয়ে তাঁরা সার উৎপাদন করছে। উৎপাদিত কেঁচো সার নিজেদের জমিতে ব্যবহার করছে এবং প্রক্রিয়াজাত করে অনেকে বাজারেও বিক্রি করছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগ এবং বেসরকারি সংগঠনের কারিগরি সহায়তায় গ্রামীণ নারী কৃষকরা কেঁচো সার উৎপাদনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণে প্রয়োজন সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রচারণা। কেঁচো সারের ব্যবহারের মাত্রা বৃদ্ধি করে আগামীতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে এই অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

Print Friendly, PDF & Email

যমুনা প্লাজা,গাইবান্ধা -01740569856

জিনিয়াস কিন্ডার গার্টেন এন্ড স্কুল ও জিনিয়াস এডুকেয়ার

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৪ অপরাহ্ণ
  • ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ১৯:০০ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102