করনা ভাইরাসের কারনে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধায় পালিত হচ্ছে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন। তবে কাগজে কলমে লকডাউন হলেও বাস্তবে মানছেন না গাইবান্ধার সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন পরিবহন চালক, ব্যাবসায়ী সহ অনেকে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে চোর পুলিশ খেলা খেলছে ব্যবসায়ীরা ( দোকান মালিকরা)।
সাধারন মানুষ লকডাউনকে বুদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে ঘর থেকে নেমে পরছেন। তারা এখন আর লকডাউন মানতে রাজিনা। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গ্রাম থেকে বা বাসা থেকে শহরে চলে আসতে হয়েছে।
গাইবান্ধা শহর ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফার লকডাউনের চতুর্থ দিন শনিবার শহরের প্রধান সড়ক ডিবি রোড, কাচারিবাজার, সালিমার সুপার মার্কেট, তরফদার ম্যানসন, ইসলাম প্লাজা, নিউ মার্কেট, মধ্যপাড়া সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে কিছু দোকান আংশিক খোলা ও কিছু দোকান বন্ধ রয়েছে। আবার অনেকে অর্থ উপার্জনের জন্য মার্কেট বা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বসে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়। চোখের সামনে ক্রেতা দেখলেই দোকানের শার্টার টুক করে খুলে ঢু মেরে বিক্রি করছে। দূর পাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকলেও চলছে পণ্যবাহী ট্রাক, কিছু সংখ্যক রিক্সা, অটোরিক্সা ও ভ্যান। লকডাউনে সরকার দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও অনেকে তা মানছে না। যেই প্রশাসন বা পুলিশ আসে তখন দোকান বন্ধ করে,আবার পুলিশ গেলে দোকান খোলে। এতে করে পুলিশ সহ প্রশাসনের সাথে চোর পুলিশ খেলা খেলছে ব্যবসায়ীরা। মানছেনা লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি।
তবে কিছু মানুষকে প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে।
শহরের নতুন ব্রীজের পাশে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করতে দেখা গেছে সদর থানা পুলিশকে।
লকডাউন বাস্তবায়নে শহরের ভিতরে মানুষ ও যততত্র যানবাহন প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সেখানে বেরিকেড দিয়েছে। গাইবান্ধা প্রানকেন্দ্র হওয়ায় অনেকে গ্রাম থেকে শহরে আসছে ডাক্তার দেখাতে, কেউ বা পশু খাদ্য ক্রয় করতে আবার কাউকে মেয়ে জামাইয়ের বাড়ি গরু দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে।
“শহরের নতুন ব্রীজের পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেয়া স্থানে দুজন অটো চালকের সাথে কথা বললে তাদের মধ্যে তুলশীঘাটের একজন অটো চালক নজরুল ইসলাম” জানান- লকডাউনে গাড়ি বের করিনা। মাঝে মধ্যে গাড়ি চালালে ব্যাটারির সমস্যা হয়। আমরা দিন মজুর, দিন আনি দিন খাই। গাড়ি না চালালে খামু কি। তাছাড়া একজনের মেয়ের জামাইয়ের বাড়ি গরু দিতে হাসেম বাজার গিয়েছিলাম। উনি জোড় করে পাঠালো। আল্লাহ সব কিছু, আল্লাহ যদি করনায় অসুস্থ করে করবে, কি করার আছে।
“গাইবান্ধা সদরের খোলাহাটির অটো চালক ১ নং রেল গেটে মুরগীর খাদ্য কেনার উদ্দেশ্যে আসা কামরুল” স্যার বলে সম্মোধন করে জানান- স্যার আমি ৩ দিন হল গাড়ি বের করিনা। মুরগির ফার্ম মালিককে বলেছি রাস্তায় বেরিকেড দেয়া। পুলিশ যেতে দেয়না। তারপরও আমাকে জোর করে পাঠালো যে খাদ্য না আনলে মুরগীগুলোকে খাদ্য দিতে পারব না। ১ নং রেলগেটে মুরগীর খাদ্য আনতে।
” এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার এ,এস আই রবিউল ইসলাম” জানান- লকডাউন বাস্তবায়নে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান স্যারের নির্দেশে শহরের নতুন ব্রীজ এলাকায় দুপুর ২ টা থেকে দায়িত্বপালন করছি। রাত ৮ টা অবধি করব। কেউ লকডাউন মানছে না। মানার চেষ্টা করছে না। লকডাউন ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। শহরের বাহিরের লোকজন শহরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সুস্থ লোক অসুস্থতার ভান করে অটোতে শুয়ে শহরে প্রবেশ করছে। তবে যারা প্রকৃত অসুস্থ তাদের যানবাহন আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।
অন্যদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন। লকডাউন অমান্য ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন প্রতিদিন গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মাস্ক বিতরণ করছেন। তারপরও মানুষ যেন সচেতন হচ্ছে না।
১৭ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল মতিন এর নির্দেশে করোনা সংক্রমণ ও বিস্তার রোধকল্পে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ও সচেতনতামূলক মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট ( এনডিসি) এস,এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী বাজার, বাদিয়াখালি রেলস্টেশন ও ত্রিমোহনী এলাকায় যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি না মানা, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং সেন্টার (স্টুডেন্ট কেয়ার) ও দোকান খোলা এবং মাস্ক পরিধান না করা সহ বিভিন্ন অপরাধে শনিবার ৪ টি মামলায় ১৫হাজার ৫শ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
তিনি জানান- জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিডি গাইবান্ধা/