বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আ’লীগ নেতা বকুলের শয্যাপাশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিপন তিস্তার গর্ভে দুইটি বিদ্যালয়, বালু চরে টিনের চালায় পাঠদান গাইবান্ধায় আলোচিত শুভ হত্যা মামলায় চাচাসহ ১০ আসামির সবাই খালাস ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউপি’র গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ সাদুল্লাপুর বুজরুক জামালপুরে পায়ের অপারেশন করার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন অসুস্থ মশিউর রহমান সিনিয়র সাংবাদিক কাফি’র উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা নিজের কিডনি বিসর্জন দিয়ে ছেলের জীবন বাঁচালেন ‘মা’ গাইবান্ধা পৌর ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করলেন হুইপ গিনি গোবিন্দগঞ্জে সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের বর্ষপূর্তি পালিত: আলোচনা সভা ও কেক কর্তন

ফুলছড়িতে এবারের বন্যায় ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি

রিপন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

টানা বৃষ্টি, উজানের পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি উপচে এবারের বন্যায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ফসলহানি হয়েছে ছয় ইউনিয়নে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এসব জমিতে রয়েছে ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এই নিয়ে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছে। অবশ্য বন্যার পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিই মূলত চর। ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে বা বেষ্টনীর ওই এলাকাতেই আমন সহ অন্যান্য শাকসবজি বেশি হয়। এসব ইউনিয়নে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ফজলুপুর, ফুলছড়ি, এরেন্ডাবাড়ী, উড়িয়া ও গজারিয়া। এছাড়া উদাখালী ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে রোপা আমন ও শাকসবজিসহ বেশ কিছু ফসলের ক্ষেত। এখনো চরাঞ্চলের ফসলি ক্ষেত ডুবে আছে। এতে অনেক কৃষক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি।

কৃষকরা জানিয়েছে, বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছে ফসলের জমি। ইতিমধ্যে ধানগাছ পচতে শুরু করেছে। তবে পানি কমতে থাকায় তাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ধানের আবাদ করেছে। এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছে।

উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন (৪৮) বলেন, ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করেছিলাম। পানিতে ডুবে সব নষ্ট হয়ে গেছে। ওই গ্রামের আব্দুর রহিম (৫২) বলেন, ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান ও বেশ কিছু শাক-সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধারদেনায় আবাদ করে এখন বিপাকে পড়েছি। তিনি বলেন, গাবগাছি গ্রামের প্রায় সব কৃষক কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেকের গাঞ্জিয়া ধানের বীজতলা, বেগুনের বীজতলা, করলা, কাঁকরোল, পটোল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ওই ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩২) বলেন, আমার ১৬ বিঘার জমির আমন ধান পানির নিচে তলাইয়া গেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এসব জমিতে গাঞ্জিয়া ধানের আবাদ করার বীজতলাও নষ্ট হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসান মানিক বলেন, বন্যা হবেনা ভেবে চরাঞ্চলের মানুষ আমন সহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু প্রচুর বৃষ্টি ও পাহাড়ির ঢলের কারণে বন্যায় এসব ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, খোলাবাড়ি গ্রামের এক কৃষকের ৯ বিঘা জমিতে বন্যা সহিষ্ণু বিনা-১৭ ধানের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছিল। যা ১১দিন থেকে পানিতে ডুবে আছে। ১৪দিন পর্যন্ত ডুবে থাকলেও এধান নষ্ট হওয়ার কথা না। বন্যার পানি সরে গেলে ওই ধানের পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

উপসহাকরী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মতলুবর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় ফুলছড়ি উপজেলায় ৩৪০ হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত ও ১০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিপুন দেবনাত বলেন, বন্যায় চরাঞ্চলের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে থাকায় কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে যারা বন্যা সহিষ্ণু নয় এমন ধানের আবাদ করেছে তারাই বেশি গ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:১৫ অপরাহ্ণ
  • ১৮:০০ অপরাহ্ণ
  • ১৯:১৪ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102