বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সেই পিআইও’র মানহানির মামলায় যমুনা টিভির গাইবান্ধার সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় এস,এ টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতঃ আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১১ প্রার্থী বহিষ্কার গাইবান্ধা সদর থানায় যাওয়ার পথে কাকড়ায় চাপায় প্রান গেল বৃদ্ধের গাইবান্ধা নবাগত জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান সাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণের পরিচিতি সভা নিবন্ধন পেলেন  নিরাপদ যানবাহন চাই নিযাচা ফাউন্ডেশন। সিনিয়র এডভোকেট সিদ্দিকুল ইসলাম রিপুর নিজস্ব অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ গাইবান্ধায় গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে চুক্তিবদ্ধ ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পরিচিতি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সাদুল্লাপুরের ফরিদপুরে নৌকার নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৬  বাবার সাথে স্কুলে যাওয়া হলো না নাঈমের

ত্রাণ নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায় লালমনিরহাট গৃহহীন শত শত পরিবার

আবু হাসান (আকাশ)-লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কমে গেলে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গৃহহীন হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। তিস্তা তীরবর্তী মানুষেরা এখন আর ত্রাণ চায় না। তারা চায় তিস্তা নদীকে নিয়ে সরকার যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিস্তা নদীকে ঘিরে সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তিস্তাপাড়ের লোকজন।

 

সম্প্রতি জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার চর সির্ন্দুনা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তিস্তা নদীর ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য। প্রতি মুহূর্তে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গৃহহীন হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। সির্ন্দুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ২টি মসজিদ হুমকির মুখে।
অনেকেই এক বছরেই দুই-তিন বার তাদের বসতবাড়ি নদী ভাঙনের কারণে সড়িয়ে নিয়ে গেছেন। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলে গিয়ে দিনমজুরির কাজ করছেন।
এছাড়া ৫/৭ বছর আগে যাদের কয়েক একর ফসলি জমি ছিল, যাদের বাড়িতে প্রতিদিন ৪/৫ শ্রমিক দিনমজুর কাজ করতো, বছরে কয়েকশ’ মণ ভুট্টা ও ধান উৎপাদন করতো; নদী ভাঙনের কারণে তারাই আজ অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করেন বেঁচে থাকার প্রয়োজনে।

তিস্তাপাড়ের ওই এলাকায় লোকজন বলেন, আমাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেলে পুনর্বাসনের জন্য আমাদের দুই বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকার সাথে কিছু চাল-ডাল দেয়া হয়। আমরা ওইসব ত্রাণ চাই না। আমরা চাই তিস্তা নদীকে ঘিরে সরকার যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আমাদের ভাগ্য আমরাই পরিবর্তন করতে পারবো।

ওই এলাকার দুই জন ইউপি সদস্য জানান, এ বছরে সির্ন্দুনা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে দুই শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এতে প্রায় আধা কিলোমিটার ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে। তিস্তাপাড়ের মানুষ এখন আর ত্রাণ চায় না। তারা চায় তিস্তা নদীকে নিয়ে সরকার যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন চায়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিস্তা নদীকে ঘিরে সকল সমস্যার সমাধান হবে- এমনটি মনে করছেন তিস্তাপাড়ের লোকজন। তাদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন নদী ভাঙন কমে যাবে, অন্যদিকে হাজার হাজার একর ফসলি জমি বের হবে। এতে ওই এলাকার লোকজনের কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে এক হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনরকম বসবাস করছে। তাদের পুনর্বাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, তার ইউনিয়নের চর সির্ন্দুনা গ্রামে ৩ শতাধিক পরিবার তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে। আশ্রয় দেয়ার মতো উঁচু স্থান তার ইউনিয়নে আর নেই। ইতোমধ্যে অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। তাদের পুনর্বাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, আমি নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। যারা গৃহহীন হয়ে পড়েছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

 

বিডি গাইবান্ধা/ বার্তা সম্পাদক

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৩ অপরাহ্ণ
  • ১৬:০০ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪০ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৬ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102