শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায়,করোনা মহামারী কাটিয়ে রথের রশিতে টান নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে দাদা গ্রেফতার গাইবান্ধায় এনসিটিএফ জেলা কমিটির জুন মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত।। গাইবান্ধায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা: স্বামী-শ্যালকের মৃত্যুদণ্ড গাইবান্ধায় সমাজভিত্তিক শিশু  সুরক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত তিস্তা, সানিয়াজান ও ধরলার পানি বৃদ্ধি, দেখা দিয়েছে বন্যা গোবিন্দগঞ্জে প্রসাধনীর নকল কারখানায় সাংবাদিক কে আটকে মারধর ঘটনায় সেই চপল গ্রেফতার সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে এসকেএস স্কুল & কলেজে ট্রাফিক এ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম সাংবাদিক আটকে মারধর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল”থানায় অভিযোগ দায়ের পলাশবাড়ীর পবনাপুরে তাঁতীলীগের কমিটি অনুমোদন

সাদুল্লাপুরে মানবেতর জীবন-যাপনে পার করছে  কর্মহীন মানুষ

মোঃ আবু হাসানুল হুদা রাশেদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১

 করোনা ভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) প্রতিরাধে সরকার দ্বিতীয় মোকাবেলায় কাঁচাবাজার ও ফার্মেসি ও  নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া বন্ধ আছে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, দোকানপাটসহ গণপরিবহন। ফলে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হলেও এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন।

সাদুল্লাপুরে  হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের করুণ অবস্থা। লকডাউনে  হারিয়েছে কাজ কর্ম।আয়-রোজগার বলতে কিছু নেই। চরম কষ্টে তারা দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছেন না তারা। এদিকে লকডাউনের মেয়াদ আবারো  ৭ তারিখ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় আয়-রোজগার হারানো হাজার হাজার মানুষদের  শুধু অন্ধকারাচ্ছন্ন কষ্টের প্রহর গুনতে হচ্ছে। লকডাউনে, কাজ ও ব্যবসা হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন পার করছে পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ডেইলি লেবার, কুলি-মজুর, সেলুন কর্মচারী, দোকান-কর্মচারী, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, বেসরকারি ক্ষুদ্র কোম্পানির চাকরিজীবী,চাতাল-মিল শ্রমিক, ভিক্ষুকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। এসব মানুষের সঙ্গে কথা বলেও খোঁজখবর নিয়ে অসহায়ত্বের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে  ত্রাণ তৎপরতা না থাকলেও গত বছর এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়া নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। নগদ অর্থ থেকে শুরু করে চাল ডাল তেল চিনি পেঁয়াজসহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্য পৌঁছে গিয়েছিল হতদরিদ্র, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে।প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয় হারানো মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ  নিয়ে হাজির হয় অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে। এ কারণে লকডাউন থাকার পরও মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব একটা আঁচ করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ত্রাণ সহায়তার চিত্র প্রতিদিন উঠে আসেতো । কিন্তু এবার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে  ত্রাণ তৎপরতা না থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানান,

চলমান লকডাউনে উপজেলা শহরে সাদুল্লাপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারে ডেইলি বেতনে কাজ করেন রশিদ। তিনি জানান,এই দোকানে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক খাওয়া ছাড়া দিনে চারশত টাকা করে বেতন পেতেন প্রত্যেকে। এই টাকা আয় করে মোটামুটি সংসার চালাতে হিমশিম খেলেও দুবেলা দুমোটো খেয়েও সাচ্ছন্দে চলতো পরিবার নিয়ে। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাদের কাজ কর্ম নেই। তাই কেউ  অন্য কোন পেশায় যেতে পারছেন চলমান লকডাউনের কারনে।

ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ জুতা সেলাই তথা মুচির কাজ করেন মধু রবিদাস। স্ত্রী ও পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে থাকেন টিয়াগাছা এলাকায়। লকডাউনে দোকান পাটসহ অফিস আদালত বন্ধ। প্রতিদিনের মতো ছোট্র ১টি বাক্স নিয়ে বসলেও নেই কোনো খদ্দর, এখন পযর্ন্ত  এক টাকাও আয় হয় না। মধু অভিযোগ, ‘গত বছর লকডাউনে প্রসাশনসহ  জনপ্রতিনিধি অনেকেই  ত্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু হামাক  কেউ ত্রাণ দেয় না। আমরা নিম্ন জাত বলে কেউ কিছু দেয়ও না।

চানাচুর বিক্রেতা নান্নু জানান,সারাদিনে কামাই হতো ৪০০-৫০০ টাকা। করোনায় মানুষ-যুনুষ না থাকায় আজ বিক্রি করছি ১৪০ টাকা। বাজার করিম না, চালই কিনিম-কি করিম জানম না, আল্লাহ একটা ব্যবস্থা করে দিবে।

রিক্সা চালিয়ে সংসার চালায় আমজাদ,আগে কামাই করতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আজ ৯০ কামাই করেছি। চলমান লকডাউনে পেচেঞ্জার নাই, যদিও চড়ে ভাড়া বেশি চাইলে কত কথাবার্তা করার কিছুই নেই।

আবার কেউ তরি-তরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় যা হচ্ছে তা একেবারেই কম। উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর সবার একই অবস্থা। কিন্তু কাজ না থাকায় পরিবারগুলোর  সদস্যদের  কী খেয়ে জীবন বাঁচাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

সাদুল্লাপুর উপজেলায় সব মিলে পরিবহণ শ্রমিক রয়েছে অন্তত ৩/৪ ‘শো’ জন। গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকায় দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব শ্রমিক মারাত্মক অর্থকষ্টে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন ত্রাণ সহায়তার জন্য। অনেকেই শ্রমিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সহায়তার আশ্বাস পাচ্ছেন না।পরিবহন শ্রমিক স্বপন জানান,কাল প্রসাশনেরর পক্ষ থেকে আইডি কার্ড চাইছে কি দিবে জানি না। জেলা বাস মিনিবাস কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান বলেন,এবার প্রায় অনেক দিন ধরে বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে পরিবহণ চলাচল বন্ধ। শ্রমিকদের পরিবার খুব কষ্টে আছে। ত্রাণের জন্য আমাদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। আমরা এক প্যাকেট ত্রাণ সহায়তাও একটি শ্রমিক পরিবারকেও দিতে পারিনি।’ চেষ্টা করছি দেওয়ার জন্য। আশা করছি সরকার ব্যবস্থা করবে।

নুরপুরের  দৈনিক লেবার শ্রমিক নজ্জু বলেন, দিনে কাজ করে  ৪০০ টাকা  আয় করি। বৃষ্টি ও লকডাউনে কেউ আর কোন কাজে নেয় না। দুঃখের  কথা তোমাক বলে লাভ নেই তোমরা আমাক কিছু দিবান্নন। এ কারণে শ্রমিকরা প্রায় অলস হয়ে বসে কষ্টের প্রহর গুনছেন।

সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সেলুনের নরসুন্দরদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সেলুনগুলোতে নরসুন্দর আর খদ্দেরের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন। উপজেলার প্রধান প্রধান জায়গার সড়কের সেলুনগুলো বন্ধ। কিন্তুু নুরপুর,এনায়েতপুর লালবাজার এলাকায় সরেজমিনে এসব এলাকায় কয়েকটি সেলুনের ঝাঁপ অর্ধেক খোলা দেখা গেলেও আতঙ্গে কাজ করার স্থান চেয়ার বসতে পারছে না কাস্টমার  কখন যে প্রসাশন আসে ফাইন করে। এদিকে  মিরপুরের এক ঝাঁপ বন্ধ রেখে সেলুনে কাজ করছেন নরসুন্দর শ্রাবন তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে আমি এ কাজ করি। আজ সকাল থেকে মাত্র ১টা দাড়ি সেফ করছি, ১৫ টাকা দিয়ে বলে টাকা নাই লকডাউনে কামাই নাই এটাই নে। করার কিছুই নেই।

সেলুন খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গরীব মানুষ কী করে খাব? এছাড়া অন্য কোনো কাজও পারি না। পেটের দায়ে সেলুন খোলা রেখেছি। দোকানে ভিড় দেখলে পুলিশের দাবড়াদাবড়ি প্রসাশনের ফাইন কোন দিকে যাই  জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। গত কয়েকদিন হলো ঠিকমত দোকান খুলতে পারি না। আগের কিছুদিন কাজ করে কিছু টাকা জমা ছিলো তাই দিয়ে চাল ডাল বাজার করে সব শেষ।  এভাবেই কাটছে হামার দিন। ভবিষ্যতে কী হবে কিছুই জানি না।আল্লাহই জানেন কি হবে সামনে। ফলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও সাদুল্লাপুর শহর ছাড়া গ্রামগঞ্জে দুএকটি সেলুন খোলা দেখা গেলেও  কোনো খদ্দর নেই। ফলে অলস সময় পার করছেন নরসুন্দররা।
সাদুল্লাপুরের শহরের নর সুন্দরের আইকন রফিকুল  জানান, করোনার কারনে লকডাউনে  দোকান-পাট ও  অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় কোন কাস্টমার নেই বউ-ছোল নিয়ে বিপাকে আছি। তোমরা সাংবাদিক হামার জন্য কিছু করো কত আর বসি থাকি।

সাদুল্লাপুরে কাচা বাজারের  বৃহৎ পাইকারি আড়ৎ। ভাই ভাই আড়তদের রাজু জানান, বেচা বিক্রি নেই, লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা নেই। তাই কর্মচারীও নেই। সামনে ঈদে ব্যবসা না হলে ব্যবসায়ী বা দোকান মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তেমনি দোকান-কর্মচারীরাও অর্থকষ্টে পড়বেন। দোকান কর্মচারীদের ভাগ্যে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তাও জুটছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

ক্রেতা আলমগির ছন্দমিলে বলেন,এ ভাবে কত দিন চলবে লকডাউন কি হবে দেশের এ ভাবে চললে হয়তো দেশের মানুষের শুনতে হবে খাদ্য দে বাচার মতো স্বপ্ন দে নইলে লকডাউন তুলে দে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৬ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৪২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৪ অপরাহ্ণ
  • ২০:২০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102