বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আ’লীগ নেতা বকুলের শয্যাপাশে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিপন তিস্তার গর্ভে দুইটি বিদ্যালয়, বালু চরে টিনের চালায় পাঠদান গাইবান্ধায় আলোচিত শুভ হত্যা মামলায় চাচাসহ ১০ আসামির সবাই খালাস ডোবার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউপি’র গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ সাদুল্লাপুর বুজরুক জামালপুরে পায়ের অপারেশন করার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন অসুস্থ মশিউর রহমান সিনিয়র সাংবাদিক কাফি’র উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা নিজের কিডনি বিসর্জন দিয়ে ছেলের জীবন বাঁচালেন ‘মা’ গাইবান্ধা পৌর ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করলেন হুইপ গিনি গোবিন্দগঞ্জে সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের বর্ষপূর্তি পালিত: আলোচনা সভা ও কেক কর্তন

সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধার কৃতি সন্তান তুলসী লাহিড়ীর প্রয়ান দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

বিখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা, গ্রামোফোন কোম্পানির সুরকার, বাংলা ছায়াছবির জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ছিলেস তুলসী লাহিড়ী। নাটক রচনা ও অভিনয় দিয়ে নাট্য আন্দোলনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছিলেন।

জন্ম ও শৈশব:
অবিভক্ত বাংলার রংপুর জেলা, বর্তমান গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় জমিদার পরিবারের ৭ এপ্রিল ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ লাহিড়ী। পিতা ছিলেন রংপুরের ডিমলা এস্টেটের ম্যানেজার। গানের জগতে ঘুরে বেড়ানো আর গান শেখার শখ শৈশব কাল থেকেই। বাবা সুরেন্দ্রনাথ দত্তের কাছেই সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি। পরে ওস্তাদ খেলাফত হোসেনের কাছে শিক্ষালাভ করেছিলেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:
সংগীত পরিচালক, গীতিকার, অভিনেতা ও কাহিনিকার – এই চার গুণের অধিকারী ছিলেন তুলসী লাহিড়ী। এবং সে-যুগের চলচ্চিত্র জগতে এই চার ভূমিকাতেই তিনি তাঁর সার্থক দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুনামের সঙ্গে। ১৮৯৭ সালের এপ্রিল মাসে রংপুর জেলার (বর্তমান গাইবান্ধা জেলা) প্রথম সৌখিন অভিনয় – রংপুরে, নাটকের নাম – পরপারে। দ্বিতীয় অভিনীত নাটক – মিশরকুমারী। রংপুর থাকাকালীন সময়ে মিশরকুমারী নাটকটি তিনি পরিচালনাও করেছিলেন। গীত রচনা — ১৯২৯ সালে এইচ, এম, ভিতে ওস্তাদ জমিরউদ্দীন খাঁ সাহেব সর্বপ্রথম দু’খানা তুলসী লাহিড়ী রচিত গান রেকর্ড করেন। কলকাতার রঙ্গমঞ্চ আর্ট থিয়েটারে স্বয়ম্বরা নাটকে সুর সংযোজনা করে ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। কলকাতার পেশাদার রঙ্গালয়ে প্রথম অভিনয় করেন আর্ট থিয়েটারে চিরকুমার সভা নাটকের চন্দ্র’র চরিত্রে। গানের সঙ্গে অভিনয়ের নেশাতেও তিনি পিছিয়ে থাকেননি। তাঁর নাট্যশিক্ষক ছিলেন তারাপ্রসন্ন সান্যাল। শৌখিন সম্প্রদায়ের নাটকে অভিনয় করার আমন্ত্রণ তিনি পেতেন ছাত্রজীবন থেকেই। সে-সময় রংপুরের এক শৌখিন সম্প্রদায় অভিনীত ‘পরপারে’ নাটকে ভবানীপ্রসাদের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন। গানবাজনা আর অভিনয়ের সঙ্গে লেখাপড়াতেও তিনি কম ছিলেন না। ল পাস করে তিনি কর্মজীবনের শুরুতে রংপুর কোর্টে ওকালতি করতেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি এইচএমভি, কলম্বিয়া ও মেগাফোন কোম্পানিতে সংগীত পরিচালকের পদে আসীন ছিলেন। চলচ্চিত্র জগতেও তাঁর প্রথম প্রবেশ সংগীত পরিচালকের ভূমিকায়। তাঁর সুরারোপিত প্রথম ছবি ১৯৩৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘যমুনা পুলিনে’। এরপর পরিচালক, অভিনেতা ও কাহিনিকারের ভূমিকায় তিনি তাঁর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করলেন স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ‘মণিকাঞ্চন ১ম খণ্ড’ ছবিতে। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৩৪ সালে। ক্রমশ তিনি যে-সব ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেলেন সেই তালিকায় যোগ হলো – বিরহ, ‘মণিকাঞ্চন ২য় খণ্ড’, কেরানির জীবন, সোনার সংসার, বাঙালি, অভিনয়, মায়াকাজল, দিগদারি, বেজায় রগড়, হ্যাপী ক্লাব, পরান পণ্ডিত, হালবাঙালা, রিক্তা, ঠিকাদার, পরশমণি, জীবনসঙ্গিনী, বিজয়িনী, এই তো জীবন, মৌচাকে ঢিল, দিগভ্রান্ত, নতুন বউ, ভালবাসা, ফিডার মিকচার, মন্দির, চোরাবালি, বামুনের মেয়ে, রাত্রির তপস্যা প্রভৃতি। বিজয়িনী ও চোরাবালি – এই ছবি দু’টির তিনিই পরিচালক ছিলেন। এবং রিক্তা, ঠিকাদার, মহাসম্পদ, বিজয়িনী, সর্বহারা – এই কয়টি ছবির কাহিনি রচনাও তাঁর। চলচ্চিত্রজগতের মতো মঞ্চজগতেও তিনি অনেক নাটকে অভিনেতা, কাহিনিকার ও সুরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রত্যয়ের সঙ্গে। চলচ্চিত্রজগতে নির্বাক যুগের ছবিতেই প্রথম অভিনয় করেন তিনি। আর সবাক যুগের ‘যমুনা পুলিনে’ ছবিতে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। তার রচিত দুইটি গান জমিরুদ্দিন খাঁ রেকর্ডিং করলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভকালে হিজ মাস্টার্স ভয়েস ও মেগাফোন গ্রামোফোন কোম্পানিতে সংগীত পরিচালক পদে নিযুক্তি লাভ। শুরু হলো অজস্র গান রচনা আর সুর সংযোজন। আইনব্যবসা ত্যাগ করে চলচ্চিত্র ও নাট্যাভিনয়ে যোগদান। নির্বাক যুগ থেকে শুরু করে বাংলা চলচ্চিত্রের সংগে কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠতা ছিলো তার। নাট্যরচনা, মঞ্চাভিনয় এবং পাশাপাশি চিত্রপরিচালক ও অভিনেতারূপে তার অভিজ্ঞতা ছিলো ব্যাপক, সিদ্ধি ছিলো ঈর্ষাজনক।দৃষ্টি নিয়ে নাট্যরচনায় সার্থকতা লাভ। পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় গ্রাম বাংলার দরিদ্র মানুষের অভাব-অনটন দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও তাদের উপর ধর্মীয় ও সামাজিক নিপীড়নের আলেখ্য অবলম্বনে “দুঃখীর ইমাম” (১৯৪৭) ও “ছেঁড়াতার” (১৯৫০) নাটক রচনা করে ব্যাপক সুনাম অর্জন। “মায়ের দাবি” (১৯৪১), “পথিক” (১৯৫১), “লক্ষ্মীপ্রিয়ার সংসার” (১৯৫৯) তার অপরাপর নাটক। উত্তর বাংলার কৃষক সমাজের বাস্তব জীবনচিত্র এসব নাটকের উপজীব্য। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অসারতা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ। গানের জগতে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল নজরুল ইসলামের সংগে। তার লেখা বহু গান এখন নজরুলগীতি বলে প্রচলিত আছে। সহস্রাধিক জনপ্রিয় বাংলা গানের এই গীতকারের কোনো গীতসংকলন নেই। নাটকের নাম- • মায়ের দাবি (১৯৪১), • পথিক (১৯৫১), • লক্ষ্মীপ্রিয়ার সংসার (১৯৫৯), • মণিকাঞ্চন, • মায়া-কাজল, • চোরাবালি, • সর্বহারা

তুলসী লাহিড়ীর শিল্পীজীবনে ছবির পরিচালনা ও কাহিনি রচনার হিসাবনিকাশ করলে দেখা যায় যে তাঁর রচিত ষোলোটি কাহিনি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে এবং তাঁর পরিচালিত ছবির সংখ্যা এগারো। আর অভিনয় করেছেন তিনি পঞ্চাশটিরও বেশি ছবিতে। শিল্পীর শেষ অভিনীত ছবি ‘ক্ষণিকের অতিথি’। ১৯৫৯ সালের ২২ শে জুন, সোমবার, সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে ১৫৮ বি রাসবিহারী এভিনিউ, কলকাতায় এই গুণী শিল্পী পরলোকগমন করেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:১৫ অপরাহ্ণ
  • ১৮:০০ অপরাহ্ণ
  • ১৯:১৪ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102