বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধাপেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গাইবান্ধায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করলো পৌর আওয়ামীলীগ আওয়ামীলীগ সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে ৭২তম বর্ষপূর্তি পালিত আওয়ামীলীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুলছড়িতে কেক কাটা,আলোচনা ও আনন্দ র‍্যালী বিডি গাইবান্ধা ডট নিউজে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ফুলছড়িতে দুর্নীতি দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাদুল্লাপুরে কেক কাটা, আলোচনা ও আনন্দ র‍্যালী প্রদক্ষিত গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন গাইবান্ধায় সাপ্তাহিক গণমানুষের খবর পত্রিকার ২য় বর্ষপূর্তিঃ কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ফুলছড়ি উপজেলায় আওয়ামীলীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শিশুদের ঘুমের সমস্যা: অভিভাবকদের করণীয় কি!

আতিকা রহমান
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

বেশিরভাগ অভিভাবকরা সন্তানের ঘুম নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো অনেক কঠিন কাজ। অনেক অভিভাবক ই বলেন যে বাচ্চারা রাতে ঘুমায়না, দিনে ঘুমায়। কোন বাচ্চা আবার দিন রাত মিলে খুব অল্প সময় ঘুমায়। আর এর প্রভাব পড়ে বাবা-মায়ের উপরেও। বাচ্চাদের সাথে তাদেরও জেগে থাকতে হয়।

বাচ্চাদের বয়স ভেদে ঘুমের তারতম্য হয়। এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের সময়ের তারতম্য ঘটে। এবং এর সঙ্গে বাচ্চার দৈনন্দিন খাদ্যাভাস, টয়লেট, খেলাধুলা এবং বাবা মায়ের ঘুমের অভ্যাস এবং ঘুমানোর পরিবেশের উপর নির্ভর করে।
বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের ঘুমের ধরন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন জন্মের পর ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা, ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা,
২ থেকে ৫ বছর বয়সে ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা , এবং ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সে ৯ থেকে সাড়ে ১০ ঘণ্টা।

জন্মের পর থেকে বাবা মা বিশেষ করে মাকে সন্তানের ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে এবং সন্তানের ঘুমনোর পরিবর্তন গুলো ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর শরীরে জন্য খুব প্রয়োজন।

শিশুর সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত ভালো ঘুম। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুর খিটখিটে ভাব থাকবে এবং খাবারে অরুচি হবে এবং শারীরিক নান সমস্যাও তৈরী হয়। মনে রাখতে হবে একজন শিশু কখনো বাবা মা বা বড়দের মতো ঘুমাবে না। বা তাকে সেইভাবে জোর করে অভ্যাস করানো যাবে না। এ বিষয়ে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

শিশুরা কেন ঘুমাতে চায়না
• অনেক বাচ্চা ঘরে বেশী আলো থাকলে ঘুমাতে চায়না।
• ঘরে যদি টেলিভিশন চলে তাহলে ঘুমাতে চায়না।
• ডায়পারটা হয়ত ভেজা থাকলে , কিংবা খুব আঁটসাঁট হয়ে আছে, তখন বাচ্চারা অস্বিস্ততে থাকে, তার ঘুমের বাধা হতে পারে।
• রাত ১০ টা ১১ বাজলেও অনেক সময় বাচ্চা ঘুমাতে চায়না, এর একটি কারন
হতে পারে বাচ্চা বাবা মায়ের সঙ্গে খেলতে চায়। বা আপনার সান্নিধ্য বা আদর
পেতে চায়। এসময় বুকে জড়িয়ে ধরে রাখা, আদর করাটা সে উপভোগ করতে
চায়।

• অনেকেই বাচ্চাকে ছোট বেলায় দোলনায় বা কোলে দুলিয়ে ঘুম পাড়ান; এতে আরও অসুবিধা হয়। কারণ এতে সে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বিছানায় শোয়ালেই জেগে ওঠে।
• বাচ্চার যদি সর্দির ভাব থাকে বা শরীর খারাপ থাকলে, পেটে ব্যথা হলে
শিশুদের ঘুমের সমস্যা হয়।

• যারা কোলে নিয়ে কিংবা কাঁধে নিয়ে বাচ্চাকে ঘুমিয়ে দেন তাহলে বাচ্চা সেভাবে অভ্যস্ত হতে শুরু করে, ফলে কাঁধ থেকে বিছানায় দিলে তখন তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে বা বারবার জেগে যায়।
• সকাল বেলা ১১ টা ১২ টায় ঘুম থেকে উঠলে বা সন্ধায় বেশীক্ষন ঘুমালে বাচ্চা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবেনা।
• অনেক শিশু ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে বারবার ঘুম থেকে উঠে যায়।

শিশুর ঘুমের সমস্যা দূর করতে যা যা করবেন।

• শিশুর জন্য ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে হবে- তাকে প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট ঘরে নির্দিষ্ট বিছনায় ঘুম পারাতে হবে। বিছানা যেন তার পরিচিত হয়।
• অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আরামদায়ক বিছানা দিতে হবে।
• শোবার ঘরটা কিছুটা অথবা হালকা অন্ধকার রাখতে হবে। অনন্তত ঘুমানোর আধা ঘন্টা আগে থেকে রুমে বেশী আলো কমিয়ে ফেলতে হবে।
• শিশুরা ঘুমনোর সময় ঘরে অন্য সমস্যদের উচ্চস্বরে কথা বলা যাবেনা।

• রাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের জন্য ঘুমানোর আদর্শ সময় রাত সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ৯টা। এই সময় ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
• ঘুমোনোর আগ দিয়ে ৮ মাসের বেশী বয়স থেকে এবং এর বেশী বয়সী শিশুকে ভারী খাবার খাওয়াতে হবে।
• একইভাবে দুপুরের দিকেও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।
• বাচ্চাকে দিনে খেলাধুলার অভ্যাস করাতে হবে। তাতে শরীর যথেষ্ট ক্লান্ত বোধ করবে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবে।

• গরমের দিনে বাচ্চার ঘুমানোর আগে হালকা নরম সুতি কাপড় বা গামছা দিয়ে পুরো শরীর মুছে দিলে শরীরে আরাম বোধ করবে। ভালো ঘুম হবে।
• ঘুমানোর সময় মোটা কাপড় বা সিনথেটিক কাপড় পরিহার করতে হবে। পাতলা সুতি কাপড় পরাতে হবে।
• ঘরে পর্যাপ্ত ফ্যানের বাতাস অথবা জানালা দিয়ে বাতাস প্রবেশ করে সেরকম ব্যবস্থা করতে হবে।
• ঘরে এসি চললে মাঝারি তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
• নবজাতক থেকে শুরু করে ৩ বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাকে ঘুম পাড়ানোর সময় কোলের মধ্যে নিয়ে ঘুমনোর চেষ্টা করতে হবে। এবং শিশু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর অনন্ত ৩০/৪০ মিনিট শিশুর সঙ্গে থাকতে হবে। যাতে করে বাচ্চা বুঝবে তার মা তার সঙ্গেই আছে।
• ঘুমানোর পর একটু ভারী টাইপের কোল বালিশ বা একটু বড় বালিশ দুই পাশে দিয়ে রাখতে হবে যাতে করে শিশু মনে করে তার মা সঙ্গে আছে। তখন সে আরামে ঘুমাবে।
• শিশুর ঘুমানোর আগে টিভি দেখানো যাবেনা, মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে।
• শিশুকে ঘুমের মধ্যে ফিডার খাওয়ানোর অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কাত বা চিত করে শোয়ানো হয়। উপুড় করে শোয়ানো উচিত নয়। উপুড় করে শোয়ালে বাচ্চার নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বুকে চাপও লাগতে পারে।
শরীর খারাপ থাকলে, বিশেষ করে পেটে ব্যথা হলে শিশুদের ঘুমের সমস্যা হয়। শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো খুব পাতলা বালিশে ঘুমনোর অভ্যাস করালে। এতে করে শিশু মাথা ও ঘারের পজিশান টা ঠিক থাকে। শিশু আরামে ঘুমাতে পারে।

ইনসমনিয়া হল ঘুমাতে যাওয়ার পর সহজে ঘুম না আসা, মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়া অথবা একেবারেই ঘুম না হওয়া ইত্যাদি। এরকম হলে শিশুর দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করে, শিশুর মনের সতেজতা বা ফুরফুরে ভাব দূর করে।

৫ থেকে ১২/১৩ বছরের অনেক বাচ্চাদের নাইটমেয়ার হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষন কম্পিউটার বা টেলিভিশন দেখার অভ্যাস রয়েছে এবং দিনে খেলাধুলা করেনা। তার শারিরীক অ্যাক্টিভিটি কম থাকে। নাইটমেয়ারে শিশু স্বপ্নে ভয় পায়। এবং বারবার ঘুম থেকে ভয় পেয়ে জেগে ওঠে।

যেসব শিশুদের টনসিল, এডেনয়েড, কানের সমস্যা রয়েছে এসব শিশুরও রাতে ভালো ঘুম হয়না। আবার জন্মের পর থেকে একটু পরপর কান্না করা ও দিন রাত মিলে খুব অল্প পরিমান ঘুমালে এ ধরনের লক্ষন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অনেক প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আচরণগত ও আবেগ অনুভুতিগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুর পড়াশোনা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কাজে মনোযোগ কমে যায়। এবং দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে শিশুর স্মরণশক্তিও কমে যেতে পারে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৩ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫২ অপরাহ্ণ
  • ২০:১৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102