মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১১ প্রার্থী বহিষ্কার গাইবান্ধা সদর থানায় যাওয়ার পথে কাকড়ায় চাপায় প্রান গেল বৃদ্ধের গাইবান্ধা নবাগত জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান সাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণের পরিচিতি সভা নিবন্ধন পেলেন  নিরাপদ যানবাহন চাই নিযাচা ফাউন্ডেশন। সিনিয়র এডভোকেট সিদ্দিকুল ইসলাম রিপুর নিজস্ব অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ গাইবান্ধায় গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে চুক্তিবদ্ধ ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পরিচিতি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সাদুল্লাপুরের ফরিদপুরে নৌকার নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৬  বাবার সাথে স্কুলে যাওয়া হলো না নাঈমের সাদুল্লাপুরের ইদিলপুরে নৌকা প্রার্থীর উঠান বৈঠক সাংবাদিক পলাশের নানীর ইন্তেকাল

৫১ বছর শ্রমে শান্তির ছোঁয়া লাগেনি কামার দিলীপের

মোঃ আবু হাসানুল হুদা রাশেদ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

আদি কাল থেকে চলে আসা পূর্ব পুরুষদের এ পেশায় জরিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কামারি কাজে ‘টুং টাং’ শব্দে হার ভাঙ্গা পরিশ্রমে আজ পযর্ন্ত শান্তির ছোঁয়া লাগেনি কপালে। আছে শুধু দুঃখ গাঁথা গল্প। ঘাম ঝড়া পরিশ্রমে এমনকি জীবন দিয়েও পরিবার ও দেশের আধুনিকতা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন তাঁরা৷ এভাবে নানা বঞ্চনা নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাচ্ছেন সাদুল্লাপুরের কামার শিল্পিরা। তবে সারা বছর কিছু না কিছু কাজ হলেও প্রথমবার করোনার লকডাউনে বন্ধ ছিল টুং টাং শব্দ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এই সব নিম্ন আয়ের মানুষদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। এতো কিছুর মাঝেও আবারো দ্বিতীয় করোনায় নিয়ে এলো উপজেলার জামালপুরের হামিন্দপুর গ্রামের দিলিপের মতো অনেকেরই দু-চোখের অশ্রুঝরা কপাল ভাজের হতাশার ছায়া। হাতে গনা কাজে টুং-টাং শব্দের ফাঁকে ফাঁকে নিভু-নিভু স্বরে বলছে,কাল কামাই করেছি মাত্র ১০০ ট্যাকা, ২ কেজি চাউল কিনে সদাই কেনার ট্যাকাই আর রইল না। এত কষ্টের মাঝেও দায় সারতে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্ত্রী ও ছেলে ইতিহাসে মাস্টার্স করা প্রতিবন্ধী প্রদীপকে নিয়ে পান্তা খেয়ে চাল,ডাল,সবজির কেনার প্রহর গুনতে হয় প্রতিদিন। বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি হলেও সে অনুযায়ী এখন তৈরী করা জিনিসের (সরঞ্জাম) ন্যায্যমূল্য পাইনা। এখন আমাগো লোহাও বেশী দামে কিনতে হয়। এই পেশায় থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্টে থাকতে হয়। শান্তির ছোঁয়ায় কষ্টে মাঝে সরকারের কাছে আকুতি বেঁচে থেকে দেখে যেতে চায় প্রতিবন্ধী প্রদীপের একটা সরকারি চাকুরি।পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরো করার জন্য দা,ছুরি,বটি অপরিহার্য। আর এ দা-ছুরি বটি তৈরি করে কামারশিল্পীরা। প্রতি বছর এমন একটি সময়ের আশায় তাকিয়ে থাকেন তারা। কিন্তু করোনার প্রভাবে হতাশায় এসব কামার শিল্পীরা। আর কিছু দিন পরেই মুসলমান সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে হতাশার প্রহর গুনতে হচ্ছে কামার শিল্পীদের। গেল বারের ঈদ করোনাকালে হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজকর্ম খুবই কম। তবে গত কয়েকমাস যাবত কামার পট্টিতে ‘টুং টাং’ শব্দ শোনা না গেলেও এখন কিন্তু সেই পুরনো শব্দে আশায় উপজেলার কামার পট্টি গুলো কোরবানী ঈদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ঈদে করোনার ক্ষতি পোষাতে মরিয়া তারা। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, চাবুক, বটি, ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বানাচ্ছেন কামাররা। এসব ব্যাবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত পাইকারী ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়ে দা, চাবুক,পাসুন,বটি, ছুরিসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করছে কামাররা। বাজারের কামার পুতুল বলেন, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রাদির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে। হয়ত বা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। পাই না ব্যাংক থেকে ঋণ। কামার গৌরাঙ্গ বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই কাজ করে আসছে। সারা বছর তেমন কাজ হয় না,কোরবান আসলে আমাদের ভাল কাজ হয়; এই বার করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের কাছে টাকা কম তাই কাজও কম হচ্ছে। করোনার প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও সরকারী কোন আর্থিক সহযোগিতা পায়নি। সরকারের এতোকিছু অনুদানে কামার শিল্পের দিকে নজরও রাখেনি জনপ্রতিনিধিরা।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১২ অপরাহ্ণ
  • ১৫:৫৬ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৩৬ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102