শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে এনসিটিএফ এর মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। পলাশবাড়ীতে বসতবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি বিনা পয়সা সরকারি সকল সুবিধা পাবে প্রতিটি মানুষ পলাশবাড়ীতে স্মৃতি এমপি সাদুল্লাপুরে ৬ জুয়াড়ি গ্রেফতার রাতের আঁধারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নিয়ে অসহায়দের বাড়িতে সাদুল্লাপুরে ইউএনও পলাশবাড়ীতে অজ্ঞাত যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনসার মুন্সির মৃত্যু আমেরিকা প্রবাসী আবু জাহিদ নিউ এর মৎস্য ও হাঁসের খামার দখলের চেষ্টা সাদুল্লাপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চলের আয়োজনে ইফতার ও রান্না করা খাবার বিতরণ মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর নিরপেক্ষ প্রভাবমুক্ত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চৌতুর মাদককারবারি গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল ফিটিং ৪৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক

করনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধঃ বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটছে বেসরকারি স্কুল শিক্ষক শাহ আলম বাবলু ও তার পরিবার”

সঞ্জয় সাহাঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

দেশব্যাপী চলছে মহামারী করনা ভাইরাস। এতে করে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধায় বন্ধ রয়েছে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারী, আধা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা প্রতি মাসে নিদিষ্ট সময়ে বেতন পেলেও গাইবান্ধা শহর সহ বিভিন্ন উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা তা পাচ্ছেন না। এক বছরের অধিক সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন কাটছে গাইবান্ধা শহরের ল কলেজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম বাবলু’র। বাকিতে পন্য নিয়ে সংসার চালালেও দীর্ঘদিন হওয়ায় বাকির টাকা পরিশোধ না করায় এখন সেই শিক্ষকের উপর চটে গেছেন সেই দোকানীরা। সে সাথে তাকে এখন বাকী দিতেও অনীহা প্রকাশ করছে সেই দোকানীরা।

নিচে স্কুল শিক্ষকের কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরা হলঃ

জানা গেছে, চলতি সালের ২৪ এপ্রিল ইং তারিখ শনিবার সকালে হঠাতই এক লোকের ওপর চটে গেছেন এক সবজি বিক্রেতা। খানিক দূরে দাঁড়িয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার জনৈক এক সাংবাদিক। দোকানি টাকা চাইছেন, আর লোকটা বারবার সময় চাইছেন। দোকানির সাফ কথা, বাকির টাকা না দিলে আর কিছু বিক্রি করবেন না তিনি। লোকটি বলছেন, এই তো কয়েক দিন পরেই তিনি সব টাকা দিয়ে দেবেন। কিন্তু দোকানি শুনতে নারাজ। পরে আশপাশের দোকানিদের অনুরোধে মন গলল ওই দোকানির। বাকিতে কিছু সবজি নিলেন লোকটি। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা শহরের নতুন বাজারে।
পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখার পর পিছু নিলেন সেই সাংবাদিক। হাতে কিছু বাজার নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। পথের মধ্যে তিনি স্কুল শিক্ষককে থামিয়ে জানলেন সে একজন স্কুল শিক্ষক। নাম শাহ আলম বাবলু৷ শুধু তাই নয় তিনি একজন নাট্য ব্যাক্তিত্ব। বাড়ি শহরের ডেভিট কোম্পানি পাড়ায়। আলাপে আলাপে তিনি জানালেন ১৯৯৪ সালে স্নাতক পাসের পর ২০১৩ সালে এলএলবি পাসও করেছেন। স্নাতক পাসের পরপরই বিয়ে করেন। যখন বিয়ে করে সংসার শুরু করেন, তখন তিনি ছিলেন বেকার। নানা জায়গায় ঘুরেও কোনো চাকরি পাননি। বাধ্য হয়ে অল্প কিছু বেতনে ১৯৯৯ সালে গাইবান্ধা শহরের দাস বেকারি মোড়ে স্থাপিত ল কলেজ কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করেন।

এখন তিনি সেই কিন্ডারগার্টেনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ছোটদের এ স্কুলে বর্তমানে শিক্ষক–কর্মচারী আছেন ১১ জন আর শিক্ষার্থী প্রায় ৩শ জন।

শাহ আলম বাবলুর একমাত্র মেয়ে সোনিয়া সুলতানা গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। স্ত্রী জাকিয়া সুলতানাকে নিয়ে তাঁর তিন সদস্যের সংসার। কিন্ডারগার্টেন থেকে মাসে বেতন পান মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। পৈতৃক বাড়িতে থাকেন বলে বাসাভাড়া লাগে না। শাহ আলমের তিন ভাই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে তারা তাকে কিছু অর্থসহায়তা দেন। তাতে টেনেটুনে সংসার চলে যাচ্ছিল শিক্ষকের। কিন্তু করোনা এসে টানাটানির কারনে সংসারে দুর্দশা নামিয়ে এনেছে। গত বছরের মার্চ থেকে শাহ আলমের কিন্ডারগার্টেনটি বন্ধ। তখন থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। 😢

 

স্কুল শিক্ষক শাহ আলম জানালেন- বেতন না পেয়ে আমার প্রতিষ্ঠানের চারজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। কিন্তু আমি অভাবের কথা কাউকে বলতেও পারছি না লজ্জায়।

তিনি আরও জানান, অনেক বছর ধরে যখনই দরকার হয়েছে ভাইদের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাঁরাও সামর্থ্য অনুযায়ী সব সময় সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু এখন ভাইদেরও ব্যবসা বন্ধ, তাঁদের কাছ থেকেও আপাতত কোনো সহায়তা মিলছে না। এক বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। কত দিন ভাইবোন বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে চলা যায়?

 

এদিকে চাল-ডাল, সবজি আর ওষুধের দোকানে সব মিলিয়ে শাহ আলমের বাকি পড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। এক বছর ধরে বাকিতে পণ্য দিতে দিতে এখন দোকানদারও শাহ আলমের ওপর বিরক্ত। তাই তিনি দোকানে গেলেই তাঁর সঙ্গে চড়া গলায় কথা বলেন দোকানিরা। কেউ কেউ বিরক্ত হলেও একজন শিক্ষকের প্রতি সহানুভূতি দেখান অন্য কেউ । তাই এক বছর ধরে বাকিতে বাজার করে দিন পার করতে হচ্ছে শাহ আলম বাবলুর। 😥

বেতন না পেয়ে আমার প্রতিষ্ঠানের চারজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। কিন্তু আমি অভাবের কথা কাউকে বলতেও পারছি না লজ্জায়। স্কুলটির জন্য কিছু সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছেও গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি জানালেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

বিডি গাইবান্ধা/

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩১ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ১৯:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102