মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ব্যবসা জমজমাটঃ নেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা সচেতন নাগরিকের!! ধান কাটতে গাইবান্ধার ৭৩ কৃষি শ্রমিক কুমিল্লা ও নন্দীগ্রামে পলাশবাড়ী হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও নার্স চাইলেন পৌর মেয়র জননেতা বিপ্লব গোবিন্দগঞ্জে পানির ট্যাঙ্কে পড়ে দুই সহোদরের মৃত্যু গাইবান্ধার স্কুলছাত্রী অপহরণের তিনদিন পর পলাশবাড়ী থেকে উদ্ধারঃ বাবলা মিয়া নামে একজন গ্রেফতার!! করনায় অসচেতন মানুষঃ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন; ট্রাফিক ও পুলিশের তদারকি!! করনায় বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষঃ গাইবান্ধা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বগুড়ার হাওর এলাকায় কৃষি শ্রমিক প্রেরণ! গোবিন্দগঞ্জে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন গোবিন্দগঞ্জে আহত ট্রলি শ্রমিক জিল্লুরের চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন সরকারী পুকুর খননের সময় দেড়শ বছরের পুরাতন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

গাইবান্ধার সাঘাটার যমুনা নদী সহ জেলার ৪টি উপজেলার বালুচরে সবুজের সমাহারঃ কৃষকের মুখে হাসি!!

সঞ্জয় সাহাঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

গাইবান্ধার চর অঞ্চলের মাটি এখন সোনার মাটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলছে সোনার ফসল। এতে করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটার হলদিয়া চড় সহ জেলার ৪টি উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী খরস্রোতা যমুনা, ব্রহ্মপুত্র সহ বিভিন্ন নদী বর্তমানে পরিণত হয়েছে ফসলের মাঠে। বিভিন্ন ফসলের চারার সবুজ রঙে সেজেছে নদী। দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনা,ব্রহ্মপুত্র। ৬/৭ মাস আগেও যার ঢেউয়ে ছাপিয়ে যেত নদীর দুই কূল।

গাইবান্ধা জেলা শহর সহ বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সব নদীই এখন মৃত। দীর্ঘ বাঁক নিয়ে জেলার এক পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনার শাখা নদীগুলোই প্রবাহিত হয়েছে জেলার ভেতর দিয়ে। এসব নদীতে শুধু বর্ষা মওসুমের ৮ মাস পানি থাকে। বছরের বাকি ৪মাস নদীগুলো যেন মরুভূমি হয়ে পড়ে। গাইবান্ধা সদর- সাঘাটা- ফুলছড়ির মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে এখন ধুধু বালুচর। যতদূর চোখ যায় শুধু বালু আর বালু। যতটুকু পানি আছে তার ওপর দিয়ে ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকাও চলাচল করতে হিমশিম খায়। অথচ দেড় যুগ আগেও যমুনা নদী বেয়ে ফেরি চলাচল করত। সময়ে-অসময়ে কূল উপচে পানি পৌঁছে যেত গৃহকোণে।

স্থানীয় অনেকেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বর্ষাকালে প্রচণ্ড ঢেউ, স্রোত ও ঝড় তুফানের জন্য মানুষ ছোটখাটো নৌকা নিয়ে নদী পারাপার হতে সাহস পেত না। মানুষ ও যানবাহন পারাপারের জন্য ছিল ফেরি, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা।

বর্ষাকালে ঘাঘট- ব্রহ্মপুত্র- যমুনা নদী পানিতে ভরপুর থাকত। এখন এ নদীতে পানির দেখা পাওয়া দায়। নদী শুকিয়ে রূপান্তরিত হয়েছে ফসলের মাঠে।
কয়েক বছর আগেও গাইবান্ধার চরাঞ্চলগুলো ছিল দারিদ্র পীড়িত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর বালুচরে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। মাইলের পর মাইল জুড়ে বালুচরে শুধু সবুজের সমারোহ। সেচ পাম্প ব্যবহার করে ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চরাঞ্চলবাসী। আর ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ।

মঙ্গাকবলিত এলাকা হিসেবে গাইবান্ধার বালাসীঘাট ও সাঘাটা উপজেলা পরিচিত হলেও এখন দিগন্তজুড়ে সবুজ আর সবুজ। দিনের পর দিন ধুধু বালুচরগুলোকে আবাদযোগ্য করে তুলছেন কৃষকরা। অনাবাদী জমিতে মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পেয়াজ, গম, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, চিনাবাদাম, কাউন, ধনিয়া সহ বিভিন্ন শাক সবজি আবাদ করছেন ভূমিহীনসহ স্থানীয় কৃষকরা। এতে স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন তারা।

 

বালুচরে চাষকৃত ব্যাক্তিরা বলেন, ধু ধু বালু চরের জমিতে মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা,মরিচ, চিনাবাদাম, ধনিয়া,কাউন, মাসকালাই সহ বিভিন্ন প্রকার সব্জির আবাদ হচ্ছে। চরে কোন পানি নেই। ভুট্টার চাষ খুব ভালো হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীতে চড় জেগে উঠায় চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান জানান- গাইবান্ধা জেলার ১লক্ষ ৫৫ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ২৫ হাজার হেক্টর জমিত আবাদযোগ্য। এ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে সদর সাঘাটা-ফুলছড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এই চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া মরিচ ভুট্টা বেশি চাষ হচ্ছে। বাঘ ফসল গুলি হল মিষ্টি আলু এবং অন্যান্য কিছু প্রচলিত ফসল যেমন চিনা, কাউন চিনাবাদাম ব্যাপকভাবে আবাদ হচ্ছে। অন্যান্য এলাকার চেয়ে চর এলাকায় ফলন বেশি। এতে করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওইসব এলাকায় সার থেকে শুরু করে অনন্য উপকরণ কৃষকরা যাতে সহযোগিতা পায় সে জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি এবং যারা পাইকারি ব্যবসায়ী তাদের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মার্কেটিং এর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কিছু কিছু এনজিও সেখানে কাজ করছে। চাষিরা যাতে লাভবান হতে পারে এ ব্যাপারে কৃষি অধিদপ্তর তাদের কে আমাদের সাথে সংযোগ স্থাপন মাধ্যমে সহযোগিতা করছে এনজিওদের কে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৪% ঋণ যাতে সহযোগিতা পায় এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা কমিটি সহায়তা করছে। পূর্ণবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লক্ষ ২৫ হাজার কৃষকদেরকে সহায়তা করেছি যেমন- কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সার্বিক সহায়তা করেছি। যেমন-বীজ, সার প্রদান করেছি চরাঞ্চলের মানুষদেরকে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০১ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৩০ অপরাহ্ণ
  • ১৮:২৬ অপরাহ্ণ
  • ১৯:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102