মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ব্যবসা জমজমাটঃ নেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা সচেতন নাগরিকের!! ধান কাটতে গাইবান্ধার ৭৩ কৃষি শ্রমিক কুমিল্লা ও নন্দীগ্রামে পলাশবাড়ী হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও নার্স চাইলেন পৌর মেয়র জননেতা বিপ্লব গোবিন্দগঞ্জে পানির ট্যাঙ্কে পড়ে দুই সহোদরের মৃত্যু গাইবান্ধার স্কুলছাত্রী অপহরণের তিনদিন পর পলাশবাড়ী থেকে উদ্ধারঃ বাবলা মিয়া নামে একজন গ্রেফতার!! করনায় অসচেতন মানুষঃ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন; ট্রাফিক ও পুলিশের তদারকি!! করনায় বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষঃ গাইবান্ধা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বগুড়ার হাওর এলাকায় কৃষি শ্রমিক প্রেরণ! গোবিন্দগঞ্জে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন গোবিন্দগঞ্জে আহত ট্রলি শ্রমিক জিল্লুরের চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন সরকারী পুকুর খননের সময় দেড়শ বছরের পুরাতন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

নাগরিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের হাতিয়ার তথ্য অধিকার আইন (প্রথম পর্ব

মাে. আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

যে কােন দেশ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সর্বােচ্চ আইন সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসার জনগণ দেশের সকল ক্ষমতার মালিক। অর্থাৎ দেশের মালিক জনগণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রর সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয় জনগনের সর্বােচ্চ কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে। এই কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য জনগণ নিজেদের প্রত্যক্ষ ভােটে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করে। আর এই নির্বাচিত প্রতিনিধি সকলে বিভিন্ন দলপর অথবা স্বতন্ত্র ব্যানার সংগঠিত একটি কাঠামাের মাধ্যমে জনগনের কল্যানের জন্য কাজ করে। সম্মিলিত সমন্বিত এই কাঠামােকেই আমরা বলি সরকার।

এই সরকার পরিচালনার ক্ষেত্র বড় অংশ ব্যায় নির্বাহ করা হয় জনগনের দেয়া করের টাকায়। তাই সরকারের বিভাগ গুলা জনগনের টাকা সঠিকভাব খরচ করছে কি না, অথবা কােন দুর্নীতি হচ্ছে কি না, তা জানার অধিকার ও জনগনের রয়েছ। এক্ষেত্রে তথ্য প্রবেশাধিকার দেশের সকল নাগরিকর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নাগরিকের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হল রাষ্ট্র জনগনের মালিকানা সু-প্রতিষ্ঠিত এবং ক্ষমতায়ন সু-নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধান মানুষর চিন্তা-চেতনা, বিবেক এবং বাকস্বাধীনতাকে অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসপব স্বীকতি দেয়া হয়েছে। আবার তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলার কর্মকান্ড কে জনগনের জানার অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন জনগনের কল্যাণ সাধনে প্রতিষ্ঠান গুলার কর্মকান্ডকে গণমূখী, স্বছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে একটি মাইল ফলক। তাই বলা যায়, নাগরিকর ন্যায্য অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো তথ্য অধিকার আইন।

তথ্য অবাধ প্রবেশ গণতন্ত্রের৷ অগ্রযাত্রায় সেবা প্রদানকারী এবং সেবা গ্রহীতা উভয়ের মধ্যে পারস্পারিক বিশ্বাস এবং আস্থার ভিত্তি মজবুত করে সেতু বন্ধন তৈরী করো। এই আইনের মাধ্যমে একজন নাগরিক যেমন তার কাঙ্খিত তথ্য পেতে পারেন অপর দিক প্রতিষ্ঠান গুলা যথাযথ তথ্য প্রকাশ ও সরবরাহ করে নাগরিকের ভুল ধারনা এবং অবিশ্বাস দুর করে আস্থা অর্জন সক্ষম হতে পারে।

আমরা বাংলাদেশের নাগরিক তাই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার থেকে কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার জন্য দেশের তথ্য অধিকার আইনের দিক সমুহ সম্পর্কে জানা খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনে জানার পূর্বে একটু পিছনে ফিরে দেখলে ভালাে হয়। তথ্য অধিকার আইনের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতা প্রায় আড়াইশ বছরের। ১৭৬৬ সালে সুইডেন আইন পাসের মধ্য দিয়ে সরকারি তথ্য জনগনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আনুষ্ঠানিকতার যাত্রা শুরু হয়। এর ১২২ বছর পর ১৮৮৮ সালপ দ্বিতীয় দেশ কলম্বিয়া তথ্য অধিকার আইন পাস করে। ১৯৫১ সাল তৃতীয় দেশ হিসেব ফিনল্যান্ড তথ্য প্রাপ্তীর আইন পাস করে। আর ৪র্থ দেশ হিসেব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রাপ্তীর আইন জারি করে। এরপর থেকেই এক এক উন্নত দেশসমুহ একই ধরনের আইন পাস করতে থাকে। জানা যায়, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৩টি দেশ, নব্বইয়ের দশকে ১৯টি দেশ এবং বিংশ শতাব্দীতে এসে ৮৪টি দেশ তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। এখানে একটি বিষয় আমাদের জেনে রাখা দরকার যে, জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তথ্য অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘তথ্য অধিকার হলাে একটি অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার, যা জাতি সংঘ কর্তৃক গৃহীত অপরাপর অধিকার অর্জনের পরশপাথর স্বরুপ’’ এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিকভাবে নাগরিকের তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অন্যতম উল্লখযােগ্য ঘটনা হলাে জাতি সংঘের মানবাধিকারের ঘােষনাপত্র যা ১৯৪৮ সালর ১০ ডিসেম্বরে গৃহীত হয়েছ।

বাংলাদশর সংবিধানে ৩৯ এর ১ উপ অনুচ্ছেদে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছ এবং ৩৯ এর ২ উপ অনুচ্ছেদে- কিছু বাধা নিষেধের কথাও বলা হয়েছ। সেটিও আবার নাগরিকের এবং রাষ্ট্রের কল্যানের জন্যেই। যেমন- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতার স্বার্থ কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটন প্ররােচনাসহ ইত্যাদি বিষয়ে আইনের দ্বারা আরােপিত যুক্তি সঙ্গত বাধা নিষেধ।

সংবিধানে নাগরিকরে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই তথ্য অধিকার মৌলিক অধিকারসমুহের অবিচ্ছদ্য অংশ। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সাল থেকেই তথ্য অধিকার আইন জারির দাবী উঠতে থাকে । প্রথমে মূলত সাংবাদিকরাই এই দাবী উত্থাপন করেন। পরেমবিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন এতে সমর্থন জােগায়। ১৯৮৩ সালেই তৎকালীন প্রেস কাউন্সিল তথ্য অধিকার আইন জারির সুপারিশ করে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে গঠিত আইন কমিশন তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের সিন্ধান্ত গ্রহণ করে ২০০৩ সালে আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করে সরকারের নিকট উপস্থাপন করে। অপরদিক দেশের সাংবাদিকমহল, বেসরকারি সংগঠন, সুশীল সমাজ. আইনবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, প্রিট ও ইলক্ট্রনিক মিডিয়া অধিক গুরুত্বের সাথে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের পক্ষ প্রচার প্রচারনা চালাত থাকে। এর প্রেক্ষিত প্রথম অধ্যাদশ আকারে ২০০৮ সাল এবং পরে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস করা হয়।

একনজরে জানতে হলে মনে রাখা দরকার ২০০৮ সালে ২০ অক্টােবর তথ্য অধিকার অধ্যাদশ জারি, ২০০৯ সালর ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদ তথ্য অধিকার আইন পাস, একই বছরর ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, ৬ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ, ১ জুলাই আইনটি পুরাপুরিভাব কার্যকর হয় এবং কার্যকরের দিন অর্থাৎ ১ জুলাইয়ে তথ্য কমিশন গঠিত হয়।

ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাব তথ্যের প্রচার এবং ব্যবহারর ক্ষেত্র ব্যাপক ভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ করা যায়। আমরা জেনে অথবা না জেনেই বিভিন্ন সময় একে অপরকে ইর্ষানিত আক্রমণ করে ভূল তথ্য উপস্থাপন করে থাকি যা আমাদর জন্য পায়ে কুড়াল মারার মতা। অনেক সময় মামলা সংক্রান্ত দলিল পত্র লেখনির ক্ষেত্র একটি তথ্যের সাথে অন্য আর একটি তথ্যর মিল থাকে না ফলে মামলার গুরুত্ব নষ্ট হয় অপরাধীর সঠিক বিচার হয়না অথবা সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করার কারন নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি ভােগ করতে পারে। তাই তথ্য প্রচার, সংগ্রহ এবং এর ব্যবহারর ক্ষেত্র সামনে পিছন ভেবে চিন্তা বিবেচনায় নিয়ে সবাের্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

তথ্যও অবাধ প্রবাহ এবং জনগনর তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে এবং ক্ষমতায়নের জন্য প্রণীত হয়েছ তথ্য অধিকার আইন। রাষ্ট্রর সকল ক্ষমতার মালিক যদি জনগণ হয় তব তথ্য প্রবেশাধিকারর জন্য সকল ধরনের সুযােগ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়ব সাইট স্বপ্রনাদিত হয় তথ্য প্রকাশ সীমিত আকার অথবা কাথাও শুন্যবস্থায় রয়েছে। দেখা যায় কর্মকর্তা/কর্মচারীর কর্মস্থান বদলি হলেও কােন কােন বিভাগ তাদর ওয়েব সাইট তথ্য প্রদানে কর্মকর্তা অথবা আপীল কর্মকর্তার নাম ও মােবাইল নম্বর সঠিক সময় হালনাগাদ করে না। এরফলে নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে হয়রানি হতে হয়। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি অথবা বেসরকারি প্রত্যকেই নাগরিকর সবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই জনসেবায় স্বছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে জনগনের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত হলে সর্বক্ষত্রের কর্মকান্ড দুর্নীতির সম্ভাবনা হ্রাস পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনর উপর স্পষ্ট ধারনা থাকা বাঞ্চনীয়।

লেখক- উন্নয়নকর্মী।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০১ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৩০ অপরাহ্ণ
  • ১৮:২৬ অপরাহ্ণ
  • ১৯:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102