বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ১৩ কেজি গাঁজা সহ ১জন আটক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার নবীন বরণে ছাত্রলীগ হামলাঃ বিবৃতি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিতঃ গাইবান্ধায় আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মনোহরপুরে ঋনের-বোঝাঁ মাথায় নিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা আইএলএসটি গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন সাদুল্লাপুরে তিন ইউপি’র ভোটগ্রহণ স্থগিত; কি হবে প্রতিফলন!  পুলিশের সহায়তায় ১৯ দিন পর আলিফ ফিরে পেল তার মা বাবা কে তেল সিন্ডিকেট না করতে ডিলারদের হুশিয়ারি: গাইবান্ধায় পেট্রোল অকটেন সংকট; ব্যাবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসনের আলোচনা নীলফামারীতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী ও প্রধান শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা সাদুল্লাপুরে ভ্যান আটকিয়ে জব্দ ড্রেজার মেশিন নিয়ে পালিয়েছে বালু ব্যবসায়ী; অতঃপর উদ্ধার

সাঈদীর রায় ঘিরে গাইবান্ধায় ৪ পুলিশ হত্যার ৯ বছর; কবে শেষ হবে বিচারকাজ?

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চার পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের এই দিনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে তার অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশ সদস্যকে।

দেশব্যাপী আলোচিত চার পুলিশ হত্যার ঘটনার ৯ বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার কাজ। ২০১৮ সালের ৪ মার্চ আদালতে এই মামলার চার্জগঠন হয়।  এরপর আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। আদালতের বিচারক না থাকায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকে প্রায় আড়াই বছর। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি ও যুদ্ধাপরাধী আবদুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ তিনজন পলাতক এবং বাকি আসামিরা জামিনে আছেন।

ফলে মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় একদিকে হতাশা বাড়ছে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারে অন্যদিকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাছাড়া এই মামলার বিচার কবে শেষ হবে এবং হত্যাকারীদের শাস্তিই বা কি হবে তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী মানবতাবিরোধ অপরাধে জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের পর সুন্দরগঞ্জে তার অনুসারীরা তান্ডব চালায়। দফায়-দফায় হামলা, অগ্নিকান্ড আর লুটপাট চালানো হয় বামডাঙ্গা রেল স্টেশন, আ.লীগের দলীয় কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। এক পর্যায়ে দুস্কুতীকারীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হক, নজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হযরত আলীকে।

শুধু তাই নয়, সংঘবদ্ধ জামায়াত-শিবিরের নেতারা বিক্ষোভ করে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা অবরোধ, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো ছাড়াও রেল লাইন উপরে ফেলে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় পরদিন ১ মার্চ সকালে গংশারহাটের শরিফুল ইসলাম নামে এক আওয়ামীলীগ সমর্থকের জিহ্বা কেটে ও চোখ উপরে ফেলে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের নেতারা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরির্দশক (এসআই) আবু হানিফ বাদি হয়ে ৮৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) জমা দেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক প্রধান আসামি জামায়াত দলীয় সাবেক এমপি আবদুল আজিজসহ তিনজন। এছাড়া একজন মারা গেছেন আর বাকী সব আসামিই আছেন জামিনে।

নিহত পুলিশ সদস্য নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর পরেও স্বামী হত্যার বিচার পায়নি। কবে এই হত্যার বিচার পাব তাও অজানা। ঘটনার পর কিছু আর্থিক সহায়তা পেলেও আর কেউ খবর রাখেনি আমাদের। এই হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।’

নিহত অপর পুলিশ সদস্য হযরত আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম বলেন, ‘হত্যাকারীদের কেউ পলাতক কেউবা জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ তাদের প্রতিটি দিনেই কাটছে চোখের জল মুছিয়ে। একমাত্র শিশু সন্তান ইফতেখার আজ বাবা হারা। ৯ বছরেও বিচার না পাওয়ায় তাদের হতাশা বাড়ছে। তবে দ্রুতই বিচারের মাধ্যমে স্বামীর হত্যাকারীদের সব্বোর্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।’

সেদিনে তান্ডবের কথা কোনদিন ভুলবার নয় জানিয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি স্বপন রাম রায় বলেন, ‘কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী হামলা-লুটপাট ও তান্ডবে অংশ নেয়। তারা প্রকাশ্যে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে চার পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনা মনে পড়লো আজও মানুষ শিউরে ওঠেন। কিন্তু নির্মম এই হত্যা মামলার বিচার আমরা ৯ বছরেও দেখতে পাচ্ছিনা। আমরা চাই, দ্রুতই বিচারের মাধ্যমে হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

এছাড়া বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুসফিকুল হাসান পিয়াল বলেন, ‘মামলার অভিযুক্ত আসামিরা জামিনে এসে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকেই আবারও প্রভাব বিস্তার করাসহ সু-সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এতে মামলার স্বাক্ষীসহ স্থানীয় অনেকেই আতঙ্কে রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব মামলার বিচার কাজ শেষ করাসহ তিনি দোষীদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি জানান।’

সাক্ষীদের সাক্ষ প্রদানে আন্তরিকতার অভাবে এই মামলার দীর্ঘসূত্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সর্বানন্দ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম রাসেলের। তিনি বলেন, ‘এ মামলার অনেক সাক্ষীই নানা অজুহাতে আদালতে সাক্ষী দিতে যাচ্ছেন না। এ কারণে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে আলোচিত এই মামলার বিচার কাজ দ্রুত নিস্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।’

তবে স্বাক্ষী গ্রহণে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক না থাকায় মামলার বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘এ মামলার মোট ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে মাত্র ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এছাড়া বিচারকের বদলি জণিত কারণে মামলার কার্যক্রম দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিলো। তবে সেই সমস্যার সমাধান হওয়ায়  বর্তমানে মামলার বিচার কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, এ বছরেই মামলার বিচার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে এবং নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।’

আদালতে বিচারাধীন এই মামলার বিষয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আদালতে তিন পুলিশ সদস্য সাক্ষী দিয়েছেন। এছাড়া মামলার স্থানীয় সাক্ষীদের সাক্ষ গ্রহণের জন্য ধার্য তারিখে আদালতে তাদেরকে হাজির করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মামলাটি নিস্পত্তির জন্য আদালতের সরকারী কৌশুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, দ্রুতই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষের মাধ্যমে মামলার বিচার কাজ সম্পুন্ন হবে। সাক্ষ্যপ্রমাণে ভিত্তিতে আদালতের রায়ে অপরাধী প্রত্যেকের কঠোর শাস্তি হবে বলেও আশা করেন তিনি।’

এদিকে, স্থানীয়রা এই দিনটিকে ‘সুন্দরগঞ্জ ট্র্যাজেটি’র দিবস হিসেবে স্মরণ করে আসছে। এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিহতদের স্বরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ। এছাড়া নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের নিজ বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ২০:০০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102