বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ১৩ কেজি গাঁজা সহ ১জন আটক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার নবীন বরণে ছাত্রলীগ হামলাঃ বিবৃতি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিতঃ গাইবান্ধায় আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মনোহরপুরে ঋনের-বোঝাঁ মাথায় নিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা আইএলএসটি গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন সাদুল্লাপুরে তিন ইউপি’র ভোটগ্রহণ স্থগিত; কি হবে প্রতিফলন!  পুলিশের সহায়তায় ১৯ দিন পর আলিফ ফিরে পেল তার মা বাবা কে তেল সিন্ডিকেট না করতে ডিলারদের হুশিয়ারি: গাইবান্ধায় পেট্রোল অকটেন সংকট; ব্যাবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসনের আলোচনা নীলফামারীতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী ও প্রধান শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা সাদুল্লাপুরে ভ্যান আটকিয়ে জব্দ ড্রেজার মেশিন নিয়ে পালিয়েছে বালু ব্যবসায়ী; অতঃপর উদ্ধার

নাটক সমাজ পরিবর্তনের সহায়ক শক্তিঃ গাইবান্ধার অন্যতম নাট্যকার ও সংগঠক আলমগীর কবির বাদল

সঞ্জয় সাহাঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

গাইবান্ধার অন্যতম নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার মরহুম আব্দুল ওয়ারেছ এর পুত্র আলমগীর কবির বাদল। আব্দুল ওয়ারেছ ছিলেন গোড়া আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক। আলমগীর কবির বাদল একজন প্রগ্রতিশীল নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। ৬ ভাই দুই বোনের মধ্যে বাদল ৪ নম্বর। আলমগীর কবির এর সহধর্মীনি একজন নাট্যকর্মী। আলমগীর কবির বাদল ছাড়াও তার ছোট দুই ভাই মোহাম্মদ আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নাটকের সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আলমগীর কবির বাদল ও মোহাম্মদ আমিন নাটকের সাথে জড়িত রয়েছে। সে সাথে তার পরিবারও নাট্যজন প্রিয় ব্যাক্তি। আলমগীর কবির বাদল বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গাইবান্ধা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি এবং গাইবান্ধা থিয়েটার এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইতিমধ্যে ৩০ টি মঞ্চ নাটক ও পথ নাটকে ৩শ টির মত নাটক/ প্রদর্শনী করেছেন।

” নাট্যকর্মী আলমগীর কবির বাদল” এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা হলে তিনি “দৈনিক নতুন দিন” পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন- আমি নাট্যকর্মী বলেই পরিচয় দিতে ভালবাসি।

তিনি কিভাবে নাটকে এলেন? এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন- ১৯৮১ সালে পাড়া ভিত্তিক পৃথিবী ঘোরে নাটক এর মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। এর আগে শীত মওসুমে পাড়া মহল্লার মাঠে ময়দানে নাটকের জোয়ার বসত। আগে আমাদের বাসার সামনে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ জায়গা খালি ছিল। সে সময় পাড়া মহল্লার সিনিয়র বড় ভাইরা নাটক করত। তাদের দেখে অভিনয়ের বীজ বপন শুরু হয় ও উদ্ভুদ্ধ হয়। সে সাথে তার দুই বড় ভাই শাহনাজ স্বপন ও ইকবাল পাড়া ভিত্তিক নাটক করেছেন। মননশীল ছিল তাদের নাটক। ১৯৮৪ সালে প্রগ্রতিশীল নাট্য চর্চার সূতিকাগার ছিল মেঘদূত। সেখানে আড়াই বছর কাজ করার পর বন্ধুরা সহ গাইবান্ধা থিয়েটার নামক সংগঠন শুরু করে। গাইবান্ধা থিয়েটার প্রগ্রতিশীল নাট্য চর্চায় ফিরে আসে। তখন নাটক ছিল রমরমা। প্রদশর্নীর বিষয়ে নাটক। হাতে ৫/১০ টাকার টিকিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেয়ে দিতেন নাটক দেখার আমন্ত্রন নিয়ে। তখন ৩/৪ টি গ্রুপ ছিপ। এদের মধ্যে প্রতিযোগীতা ছিল। দর্শক সৃষ্টির জায়গায় ছিল। নাটক এমন একটি মাধ্যম যা ক্রিকেট, ফুটবল টিমের মত ১১ জন না হলে যেমন মাঠে নামা যায়না, তেমন নাটকের গ্রুপের চরিত্র পূর্ণাঙ্গ না হলে নাটক মঞ্চায়ন হয় না। এরপর ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালে ছাত্রজীবনে কলেজের নাটকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর আন্তজেলা নাট্য উৎসবে অভিনয়ে পুরস্কৃত হন। ১৯৯০ সালে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে গণজাগরণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। সে সময় তারা নাট্যকর্মীরা তুঙ্গে এবং আন্দোলন ও নাটক করেছেন। সারা বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশাপাশি আমরাও কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি। ১৯৯০ সালে মঞ্চ ও প্রগতিশীল নাট্য চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার জোয়ার শুরু হয়। তখন থেকে এটার সাথে জড়িত হয়ে পথ চলছি।
৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে দেখানো হয়েছিল রুপক অর্থে। কিন্তু শেষ সময় যে অবনীকায় টাইগারের ভিতর থেকে যে রুপক অর্থে বের হয়ে এসেছিলেন সে হলো স্বাধীনতাবিরোধী গোলাম আজমকে। তাকে টাইগার রুপে জনগনের কাছে তুলে ধরা হয়। আর তাকে যারা সহযোগীতা করেছেন তারা স্বৈরাশাসক।

১৯৯২ সালে নাট্যকর্মী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ঘাতক দালাল নির্মল কমিটিতে একাত্বতা প্রকাশ করেন। ১৯৯৪ সালে নাটকের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেন।

সঠিক সময়ে সঠিক বা সত্য কথা বলতে না পারায় এখন নাটকের জোয়ার কমে গেছে। জনবহুল বাংলাদেশে পরিবার ছোট হয়ে আসায় নাটকের লোকজন কমে যাওয়ায় এখন নাটক কমে গেছে। আমরা সাংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে পড়েছি। আগে ভোর হলে পাড়ায় পাড়ায় গানের চর্চা শোনা যেত। স্কুল পর্যায়ে শিশুরা কবিতা আবৃত্তি, একক অভিনয় করত। এখন তা নেই। শিশু সংগঠন নেই। আগামীদিনের জন্য তা ব্যার্থতা। শিশু সংগঠন একেবারে হারিয়ে গেছে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, নাটক এমন একটি মাধ্যম যা দর্শক, অভিনেতা অভিনেত্রীর সরাসরি যোগসূত্র। যোগসূত্র হারিয়ে যাবার কথা না। সমাজের যা অনাচার তা নাটকের মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুললে দর্শক সেটা গ্রহন করে। নাটক সমাজ পরিবর্তনের সহায়ক শক্তি। মূলত সমাজ পরিবর্তন করে থাকে রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা। আমরা নাট্য কর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকরা তাদের সহযোগিতা করে থাকি বা করতে পারি। পরিবর্তনের যে গোল তা রাজনৈতিক ব্যাক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারে। আমরা শুধু পরিবর্তনের হাওয়া তুলে দিতে পারি গানের মাধ্যমে। কবিতার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে হবে রাজনৈতিক দলকে।

সরকারের কিছু আহবান করেন কিনা? এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন- বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা সরকারের কাছে আহবান জানাচ্ছি- এই সংস্কৃতি চর্চা সংস্কৃতি সেবী মানুষদের একেবারে চিহ্নিত করে সরাসরি থোক বরাদ্দ দেয়া উচিৎ। এরাই স্বাধীনতার স্বপক্ষের কথা বলে, বাঙ্গালিত্বের কথা বলে। চেতনার কথা বলে। এরা যদি হারিয়ে যায় তাহলে রাজনীতি থাকেনা। আমরা যে সংস্কৃতি চর্চা করি, জড়িত আছি তাদের প্রতি স্পেশালি নজর দেয়া উচিৎ। তাহলেই আগামীর স্বাধীনতা। রাজনীতি ও সংস্কৃতি দুটো যদি মেইলবন্ধন না হয় সে দেশ অগ্রগতি হতে পারেনা। কারন আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজকের সংস্কৃতি আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার একটা চর্চা সব সময় করি। সেটা হল দেশীয় সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া, সংস্কৃতি, আদি সংস্কৃতি,যাত্রা সংস্কৃতি, একতারা সংস্কৃতি, পুথি পাঠ একদম নেই। একটা সময় মানুষ রাত জেগে যাত্রা দেখে ভোর বেলা বাড়ি ফিরত। কোনো অঘটন ঘটত না। আজকে সে জায়গা দেখতে পারছিনা। আজ সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। এটার ভিতর মানুষের শারিরীক সহযোগীতা, সামাজিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক সহযোগীতাই পারে ওই জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্য। এখন যাত্রার শিল্পী নেই বলেই চলে। যারা এখন কাজ করছে নিভু নিভু প্রদীপ এর মত। তৃনমূলের যে নাট্য চর্চা, সাংস্কৃতি চর্চা সে স্পেস বা জায়গা খুব কম। তারা ধর্মকে জাগ্রত করতে পারে।

সম্প্রীতির বাংলাদেশ বলতে আপনি কি বুঝেন এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান- আজকে সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য পাকিস্তানের যে ধারা, মৌলবাদি ধারা জাগরিত হচ্ছে। আজকে এই সরকার বা মুক্তিযুদ্ধ সরকার তের বছর। স্বাধীনতার পর নাট্য বিভাগ চালু হয়েছে। এখন এটাতে মাষ্টার্স নিচ্ছে। এটা একটা আমাদের বিজয়। স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাট্য শিক্ষা সরকারের দেয়া উচিৎ। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও আমরা বিবেধ দেখছি। মুক্তিযুদ্ধতে সেটা চায়নি। মুক্তিযুদ্ধে মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এক চেতনায়, এক সুতোয় যুদ্ধ করেছে। আমাদের পূর্ব পুরুষরাও যুদ্ধ করেছে। এই যুদ্ধের চেতনা ছিল বাঙ্গালিত্বকে নিয়ে। আমাদের সেই শুরু থেকে বিকাশমান হতে হবে। তাহলে সব জায়গায় আর্থসামাজিক, রাজনীতিতে চর্চা থাকবেনা। সংস্কৃতির জায়গায় যদি এক হতে না পারি তাহলে সেটার মৃত্যু ঘটবে। তাহলে আর সম্প্রীতি থাকবেনা। এই জায়গাটাকে মননশীলতার মাধ্যমে নিয়ে যেতে হবে। আলাদা পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারের কাছে। এটাকে ডেভেলপ করতে হবে। সংস্কৃতি ডেভেলপ না হলে রাজনীতি ডেভেলপ হবেনা।

নাট্যকর্মী আলমগীর কবির এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক হল দর্পনের স্বরস্বতী, বাসন, নরক, গুলজার ধ্বস। নাট্যকালে তিনি নেতা, নায়ক ও কৃষকের চরিত্র করেছেন। স্বপ্ন দেখে অতৃপ্ত। আশায় আছে আরো ভাল চরিত্র করার।

তিনি বলেন- এখন মঞ্চে উঠা কম হচ্ছে। সংগঠন হিসেবে বা সংগঠক হিসাবে যে কাজ করতে হয়। বাঙ্গালি সংস্কৃতির যে ইউরিকাশ, গোড়ার যে ইউরিকাশ। এই ইউরিকাশের কাজেই গ্রাম থিয়েটার সাথে কাজ করছেন। গ্রুপ থিয়েটার, ফেডারেশন থিয়েটার কাজ করছি। আশা জাগে বাংলাদেশ সংস্কৃতির জায়গায় জেগে উঠবে। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এটার স্বপ্ন দেখছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে। দেশে শিশু ধর্ষন হবে না। নারী নির্যাতন হবেনা। শিশু হত্যা হবে না। সবাই ভাল থাকবে। দু বেলা খেয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা করবে। সকলকে ধন্যবাদ।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ২০:০০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102