শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নলডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৮ জন প্রার্থী ক্যাপ্টেন পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক নামে ভূয়া ক্যাপ্টেন আটক সস্তা বিকল্প নেই, তাই বন্ধ করা যাচ্ছে না পলিথিন গাইবান্ধায় শিশু সুরক্ষা বিষয়ক এনসিটিএফ এর স্কুল কমিটি গঠন ও সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি সেই পিআইও’র মানহানির মামলায় যমুনা টিভির গাইবান্ধার সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় এস,এ টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতঃ আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১১ প্রার্থী বহিষ্কার গাইবান্ধা সদর থানায় যাওয়ার পথে কাকড়ায় চাপায় প্রান গেল বৃদ্ধের গাইবান্ধা নবাগত জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান সাথে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণের পরিচিতি সভা নিবন্ধন পেলেন  নিরাপদ যানবাহন চাই নিযাচা ফাউন্ডেশন।

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে উন্নত জাতের ভেড়া প্রদানঃ সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে ফ্রেন্ডশিপ এ,এস,ডি প্রকল্প

সঞ্জয় সাহাঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলগুলি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা হওয়ায় দারিদ্রতা ও জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে সেখানকার মানুষগুলো।
বিশেষ করে ৩ টি উপজেলা যেমন- গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গিদারী, মোল্লারচর,উড়িয়া, কাপাশিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের ৫ টি চরাঞ্চলের মানুষ। গাইবান্ধার বেসরকারি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ এর নজরে এলে ফ্রেন্ডশিপ এ্যাসিসটেন্ট ফর সাসটেনেবল ডিভিলপমেন্ট ট্র‍্যান্সিশন ফান্ড ( এ,এস,ডি) প্রজেক্ট এর বাস্তবায়নে ও ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গ আর্থিক সহযোগিতায় গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলের চর সহ বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষকে উন্নতজাতের ভেড়া প্রদান করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্বাবলম্বী করে তুলছে। ফ্রেন্ডশিপ এ,এস,ডি প্রজেক্ট এর আওতায় গাইবান্ধার ৮ টি চরের ৩০ জন করে ২শ ৪০ টি সুবিধাভোগীদের মাঝে ভেড়া প্রদান করা হয়েছে। আর এই ভেড়া বিক্রি করে চরাঞ্চলের মানুষদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে।

 

ফ্রেন্ডশিপ উল্লেখিত প্রকল্পের কর্মএলাকাগুলো হচ্ছে গিদারীর আনালের চর, মোল্লারচর ইউনিয়নে সিধাই চর, কাপাশিয়া ইউনিয়নের পোড়ার চর, উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুর, কালাসোনা, রতনপুর চর।

” ফুলছড়ির কাবিলের চরে সরেজমিনে গিয়ে ফ্রেন্ডশিপ এর উঠান বৈঠকে এ,এস,ডি প্রজেক্ট এর সদস্য সুবিধাভোগী মোছা: মোমেনা বেগম (৪০) এর সাথে কথা হলে তিনি জানান- আগে আমরা নারীরা অবহেলিত ছিলাম। ফ্রেন্ডশিপ এর সুযোগ সুবিধা পেয়ে আমরা নারীরা আর অবহেলিত বা পিছিয়ে নেই। আগে আমরা অনেক কষ্টে ছিলাম। ফ্রেন্ডশিপ আমাদেরকে উন্নতজাতের ভেড়া দেয়ায় আমাদের জীবিকার মান উন্নয়ন হচ্ছে। ফ্রেন্ডশিপ আমাদেরকে একটি গাভীন ভেরা দিয়েছে। আর এই ভেড়া থেকে আরো ৪ টা ভেড়ার বাচ্চা হয়েছে। আমার দুই মেয়ে দুই ছেলে। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। আরেক ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। এবার এস,এস,সি পরিক্ষা দিচ্ছে। আরেক মেয়ে ক্লাস ওয়ান পড়ে। আমার ইচ্ছে আছে আগামী এক বছরে এই ভেড়া থেকে ১০ টি বাচ্চা বের করবো এবং খামার দিবো। যাতে এই ভেড়া বড় করে বিক্রি করে আমার মেয়ে বড় হলে তাকে বিয়ে দিতে পারি।

” সুবিধাভোগী মোছা: সাজেদা (৩০)” জানান- ফ্রেন্ডশিপ এই এলাকায় আসার আগে আমরা গরু ছাগল পালন করতাম। অনেক অভাব অনটন ছিল তখন। এখন ফ্রেন্ডশিপ এর এ,এস,ডি প্রজেক্ট এর সদস্য হবার পর একটা উন্নতজাতের গাভীন ভেড়া পেয়েছি। সেই গাভীন ভেড়া থেকে এখন আরো ৩ টা ভেড়া হয়েছে। ভেড়ার কোনো রোগবালাই নেই। এগুলা মারা যায়না। একটি পূর্ন বয়স্ক বড় আকারের ভেড়া বাজারে বিক্রি করলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হয়।

” আরেক সুবিধাভোগী মোছা: শাহানা বেগম” জানান- আগে আমার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ ছিল। ফ্রেন্ডশিপ আমাদেরকে একটি ভেড়া দেয়ায় তা লালন পালন করছি। সেই ভেড়া থেকে এখন দুটি বাচ্চা হয়েছে। ভেড়ার পিছনে তেমন টাকা খরচ হয় না।ফ্রেন্ডশিপ উন্নতজাতের ভেড়া পালন করার পাশাপাশি তাদের দেয়া সবজির বীজ লাগিয়ে তা বিক্রি করে বর্তমানে আগের থেকে পরিবারে অনেকটা স্বচ্ছলতা এসেছে। সে সাথে আগে আমরা পরনির্ভর ছিলাম। কোনোকিছুর জন্য স্বামীর কাছে হাত পাততে হত। কিন্তু এখন আর স্বামীর কাছে হাত পাততে হয়না।

” ফ্রেন্ডশিপ এ,এস,ডি প্রজেক্ট ইনচার্জ দিবাকর বিশ্বাস এর সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান- ভেড়া পালন করার ৬ মাস পর থেকে বাচ্চা ধারনের সক্ষমতা হয়। একটি পূর্ন বয়স্ক ভেড়া ২৮ থেকে ৩০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং তা বাজারে বিক্রি করলে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। ভেড়ার মৃত্যুহার কম। ভেড়া বন্যা সহ্য করতে পারে। কিন্তু অন্য পশু তা পায়না। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উন্নতজাতের ভেড়া পালন ও পরিচর্যা করে এখন আত্নকর্মসংস্থান ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। একবছরে ৩০ টি ভেড়া থেকে ৭০ টি হয়েছে ভেড়া।

তিনি আরো জানান- বর্তমানে গাইবান্ধার ৮ টি চরে প্রাথমিক অবস্থায় দেশী ভেড়ার মাধ্যমে বীজ দিয়ে উন্নত জাতের ভেড়া তৈরি করছি। এই জাতের ভেড়ার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত দূর্যোগপ্রবন এলাকার মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। গাইবান্ধার সকল চরে এই জাতটিকে আমরা ছড়িয়ে দিব। এতে করে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এই ভেড়া লালন পালন, ভ্যাকসিন প্রদান, রোগ ব্যাধির সময় চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপজেলা ও জেলা প্রানী সম্পদ অফিস থেকে সহায়তা পাচ্ছি।

” গাইবান্ধা জেলা প্রানী সম্পদ অফিসার মাছুদার রহমান সরকার” এর সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান- গাইবান্ধা জেলায় ৭০ হাজার ভেড়া রয়েছে সমতল ভূমিতে। চরাঞ্চলে চারন ভূমি থাকায় ভেড়া গরুর সাথে থাকতে পছন্দ করে। ভেড়া পালনে বাড়তি লোকের দরকার হয়না। সেখানে খাদ্য সংস্থান আছে। চরাঞ্চলগুলিতে ভেড়া পালন লাভজনক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফ্রেন্ডশিপ কৃত্রিম উপায়ে ভেড়া গরম করে কৃত্রিম প্রজনন করছে। এতে করে ভেড়া উতপাদন ও উতপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। গাইবান্ধা জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় করে তাদেরকে প্রশিক্ষন সহায়তা পালন করছে। গাইবান্ধার সব চরে উন্নতজাতের ভেড়া ছড়িয়ে দিলে উতপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফ্রেন্ডশিপ ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর ( FF) মো: লতিফুল হক ও কাজী নজরুল ইসলাম সহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ফ্রেন্ডশিপ একটি বেসরকারি, অলাভজনক, অরাজনৈতিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ২০০২ সাল হতে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে, বিশেষ করে চড় উপকূলীয় এলাকায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে আসছে। টেকসই উন্নয়ন সরকারি সরকারি উদ্যোগে সহায়ক হিসেবে দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতির রক্ষণ, সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন ফ্রেন্ডশিপের অন্যতম কার্যক্রম।

আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও দুর্যোগ সহনশীল সক্রিয় সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরীকরণ ও জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নই হচ্ছে
ফ্রেন্ডশিপ এর লক্ষ্য।

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঞ্চয় তহবিল গঠনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সহযোগীতার মাধ্যমে চিহ্নিত অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। জীবিকায়নের মান উন্নয়নে সরকারি সেবাদানকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহে অতিদরিদ্রের প্রবেশাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি/ বৃদ্ধি করা। এ্যাডভোকেসি সহায়তায় স্থানীয় সম্পদ স্থানীয় সম্পদ সন্নিবেশিত করনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভৌগলিক দূর্দশাগ্রস্ততা হ্রাসকরন এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা প্রদান ফ্রেন্ডশিপ এ,এস,ডি প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

কার্যক্রমের ধাপঃ কমিটি গঠন। সিভিল সোসাইটি কমিটি গঠন। স্থানীয় প্রকল্প সহায়ক কর্মী নিয়োগ (এফ,সি,জি,এ)। সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সাপ্তাহিক ও মাসিক উঠান বৈঠক পরিচালনা কৃষি ও অন্তর্ভূক্তি মূলক নাগরিকত্ব বিষয়ক। উপজেলা প্রানী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষন ও স্থায়ী যোগাযোগ স্থাপন। গন নাটক প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করা।

প্রকল্প কর্তৃক সহায়তাঃ ভেড়া প্রদান ২৪০টি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ কারিগরি সহায়তায় ভেড়ার কৃত্রিম প্রজনন করা।

 

বিডি গাইবান্ধা/ বার্তা সম্পাদক

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৩ অপরাহ্ণ
  • ১৬:০০ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪০ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৬ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
bdgaibandha.news©2020 All rights reserved
themesba-lates1749691102